আঙুল উঁচিয়ে শাসানো হচ্ছে তৃণমূলের পুরপ্রধানকে। আর যিনি শাসালেন, তিনি তাঁর দলের কেউ নন। তিনি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তাঁর ধমক খেয়ে কার্যত আমতা আমতা করে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করে গেলেন তৃণমূলের সেই পুরপ্রধান।
রবিবার এমনই বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বনগাঁ পুুরএলাকা। বুলডোজ়ার দিয়ে রাস্তার পাশের একটি শৌচাগার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদার। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ অশোক কার্যত ধমক দিয়ে তৃণমূলের পুরপ্রধানকে বললেন, ‘আপনার জন্য আমার বদনাম হচ্ছে। এত দিন ভাঙেননি কেন?’
জনবহুল বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল ওই শৌচাগার। তা মূলত বাজারের ব্যবসায়ী এবং পথচলতি মানুষেরা ব্যবহার করতেন। আবার যে ভাবে রাস্তার ধারে ওই শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। অভিযোগ, চলাফেরায় সমস্যা হতো। রবিবার সেই শৌচাগারই বুলডোজ়ার এনে গুঁড়িয়ে দেন দিলীপ। স্থানীয় সূত্রে খবর, এর পরেই ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের একাংশ অশোককে ফোন করে বিষয়টি জানান। এতে বেজায় চটে ঘটনাস্থলে গিয়ে তৃণমূলের পুরপ্রধানকে শাসান মন্ত্রী।
কার্যত ধমক দিতে দিতেই দিলীপের কাছে অশোক জানতে চান, এত দিন কেন এই শৌচাগার ভাঙা হয়নি? কেন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই তা ভাঙা হলো? এর পরেই আঙুল উঁচিয়ে অশোক বলেন, ‘আপনাকে ভাঙার অর্ডার কে দিল? আপনি দালালি কম করবেন। বনগাঁয় না তৃণমূলের গুন্ডা হবে, না বিজেপির।’ অশোকের বক্তব্য, বুলডোজ়ার দিয়ে শৌচাগার ভাঙা হয়েছে বলেই ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করেছেন, বিজেপিই এ কাজ করিয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘বনগাঁর ব্যবসায়ীরা আমাকে বলছেন, বিজেপি সরকার আসার পরেই এটা কেন হচ্ছে? আমার ঘাড়ে বদনাম দিলেন কেন আপনি (দিলীপ)?’
সেই সময়ে আমতা আমতা করে দিলীপ বলার চেষ্টা করেন, ‘আমি তো এত কিছু আগে জানতাম না। আজই জেনেছি।’ কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। অশোক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কারও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ই হবে। এর পরে বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথাও বলেন মন্ত্রী। জানতে চান তাঁদের মতামত। কথায় কথায় বলেন, ‘বনগাঁয় দ্বিতীয় ডাকু কাউকে হতে দেব না। দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে ব্যাবসায়ীদের জন্য বাথরুম রয়েছে। আজ হঠাৎ কেন ভেঙে দেওয়া হলো? আসলে বিজেপিকে বদনাম করতেই এমন পরিকল্পনা, যা আমি হতে দেব না।’