জঙ্গিরাই যদি দেশের নেতা হয়ে বসে তা হলে কী হবে? দেশ জুড়ে অবাধে চলবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ক্ষমতার জোরে ‘হয়কে নয়’ করতে কোনও অসুবিধাই হবে না। জম্মু-কাশ্মীরের OGW বা ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (যারা সরাসরি সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ডে যোগ না দিলেও জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সাহায্য করে) রাজনৈতিক দলগুলিতে যোগ দেওয়ার এমনই নির্দেশ এসেছে পাকিস্তান থেকে। কয়েক জন OGW জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য জানতে পেরেছে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ।
পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। নিত্য দিনই কিছু না কিছু নতুন তথ্য উঠে আসছে। কয়েক দিন আগে পুলিশের জালে ধরা পড়ে জম্মু-কাশ্মীরের কয়েক জন OGW। তাদের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একাধিক জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ। এতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। শুরু হয় জেরা। তখনই জানা যায়, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ISI তাদের সরাসরি জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, রাজনৈতিক দলের ভিতরে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়ানোই এদের আসল কৌশল। যাতে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে জঙ্গি নেটওয়ার্ক চালানো যায়। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদের কথায়, ‘পার্টির সদস্যপদকে এরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তার আড়ালে চলছে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজ।’ এই কৌশল অবশ্য নতুন নয়। নয়ের দশকেও অনেক জঙ্গি-সমর্থক রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ দেখিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২০ সালের জুলাইয়ে রিয়াসি জেলায় তালিব হাসান নামে এক যুবককে ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। পরে জানা যায়, সে লস্কর-ই-তৈবার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি জানতে পারে, তালিব দীর্ঘদিন ধরেই একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। শুধু তাই নয়, সেই দলের সংখ্যালঘু মোর্চার সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বেও ছিলেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতেন। তার পরে সেই সব দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতেন অবাধে। তাঁর কাছ থেকে দু’টি একে-৪৭ রাইফেল, একাধিক গ্রেনেড এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল।
একটা সময়ে বহু জঙ্গিই ভুয়ো ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের চোখকে ফাঁকি দিত বলে অভিযোগ। পাঞ্জাবের মালারকোটলায় ধৃত লস্কর মডিউলের সদস্যরা এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর ভারতে ছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা, ISI মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে OGW-দের ঢুকিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সহজে ঢোকার ফাঁদ পাতছে। শুধু তাই নয়, এর আড়ালে জঙ্গি কম্যান্ডারদের লজিস্টিক সাপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার কাজও খুব সহজে চালানো যায় বলে মত তাঁদের। এই নেটওয়ার্ক ভাঙাই এখন নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।