বন্ধুদের সঙ্গে বারে গিয়েছিলেন। সেখানে একপ্রস্থ ঝামেলা হয়েছিল। তার জেরেই যে এমন পরিণতি হবে ভাবতে পারেননি কেউই। গাড়ি চালিয়ে ইয়ান্সি (১৮) নামে এক শ্রীলঙ্কান শরণার্থী তরুণীকে পিষে মারার অভিযোগ উঠল এক দল যুবকের বিরুদ্ধে। রবিবার চেন্নাইয়ের কোয়েম্বেডু এলাকার ঘটনা। খুনের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন ইয়ান্সি। থাকতেন তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরমে। শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে চেন্নাইয়ের একটি বারে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একদল যুবকের সঙ্গে কোনও কারণে তাঁদের ঝামেলা বাঁধে। তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দেন বাউন্সাররা। শান্ত হয়ে যায় দুই পক্ষই।
সারা রাত বারেই কাটান তাঁরা। বের হন রবিবার ভোরে। সেখান থেকে সোজা বান্ধবীকে নিয়ে স্কুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন ইয়ান্সি। রাস্তায় ফের ওই যুবকদের সঙ্গে দেখা হয়। তাঁরা মোট পাঁচ জন একটি গাড়িতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের দেখা মাত্র ইট ছুড়তে শুরু করেন ইয়ান্সির বন্ধু। এতেই রেগে গিয়ে গাড়ির চালক স্কুটিকে সজোরে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। রাস্তায় ছিটকে পড়েন ইয়ান্সি এবং তাঁর বান্ধবী।
এমন ঘটনা দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই ইয়ান্সি এবং তাঁর বান্ধবীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইয়ান্সিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর জখম অবস্থায় সেখানেই তাঁর ১৭ বছর বয়সি বান্ধবীর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার তদন্তে নেমে বালামুরুগন (২১), জোশওয়া (১৯) এবং কিশোর কুমার (১৯) নামে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। তদন্তে নেমে ১৮ বছরের কম বয়সিদের প্রবেশ করতে দেওয়ার অভিযোগে বারটি সিল করে দিয়েছে কোয়েম্বেডু পুলিশ। পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। কোয়েম্বেডু থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘দুই দল তরুণ-তরুণীর বচসার জেরেই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।’