• দলবদলের গুড়ে বালি নয়, শমীক ফেললেন ‘বোল্ডার’
    এই সময় | ০১ জুন ২০২৬
  • এই সময়: নতুন নতুন শব্দবন্ধ, লব্জ উদ্ভাবনে খ্যাতি আছে বঙ্গ–বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। সেই তালিকায় তাঁর সাম্প্রতিকতম সংযোজন, ‘সে গুড়ে শুধু বালি নয়, সে গুড়ে বোল্ডার!’

    হঠাৎ কেন ‘বোল্ডার’ ফেলার কথা বললেন তিনি? তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, কাদের ঠেকাতে বোল্ডার ফেলতে চাইছেন শমীক? রাজ্য বিজেপির সভাপতি অবশ্য কারও নাম করেননি। রবিবার শমীক শুধু বলেন, ‘কারও কারও বিবেক জাগ্রত হয়েছে। এটা বিলম্বিত বোধোদয়।’ এই বিলম্বিত বোধোদয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়েই শমীক সংবাদমাধ্যমে বলে‍ন, ‘তৃণমূলের অনেকেই ভাবছেন, নিজের দলের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে শাসকদলের খোলা দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়বেন। সে গুড়ে শুধু বালি নয়, সে গুড়ে বোল্ডার।’ সেই বোল্ডারের শক্তি বোঝাতে শমীকের সংযোজন, ‘যে বোল্ডার আপনারা (তৃণমূল নেতারা) অবৈধ ভাবে এতদিন তুলেছিলেন বিভিন্ন দিক থেকে। এ সব চলবে না বিজেপিতে।’

    ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ এবং রাজ্যে পালাবদল হওয়া ইস্তক তৃণমূলের বহু নেতা–নেত্রীই নানা রকম প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই আঙুল তুলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। যদিও তাঁরা এখনও কেউই প্রকাশ্যে বিজেপিতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেননি। আবার এ রকমও নয় যে, তাঁদের সকলের জন্য বিজেপির দরজা চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে কে ‘ভালো তৃণমূল’ আর কে ‘খারাপ তৃণমূল’, এ সব বিতর্কে এ দিন সম্ভবত সচেতন ভাবেই ঢোকেননি শমীক। তিনি সামগ্রিক ভাবেই ‘গুড়ে বোল্ডার’ ফেলার কথা বলেছেন।

    দলবদল নিয়ে বিজেপির অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ২০২১–এর বিধানসভা ভোটের আগেও প্রধানত তৃণমূল এবং আরও কিছু দল থেকে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পরে তাঁদের অধিকাংশই ফিরে যান নিজের নিজের পুরোনো দলে। সেই সময়ে পার্টির রাশ ধরে রেখেছিলেন আদি নেতা–নেত্রীরাই। তার জন্য শমীক দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে দলের আদি নেতা–নেত্রীদের গুরুত্বও বাড়িয়েছিলেন। এই পটভূমিকায় শমীকের ‘বোল্ডার’ মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে।

    নির্দিষ্ট কিছু সূত্রে বঙ্গ–বিজেপি নেতৃত্ব জেনেছেন, স্থানীয় স্তরের বহু দাগি তৃণমূল নেতা–কর্মীকে বিজেপি–তে নেওয়ার জন্য লবি করতে শুরু করেছেন বিজেপির–ই জেলা স্তরের জনা কয়েক নেতা। প্রকাশ্যে সে সব নিয়ে মুখ না–খুললেও শমীক এ দিন বিজেপির সর্বস্তরের নেতা–কর্মীদের এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ভাষায় বলছি, এ ধরনের তৃণমূলী, এ ধরনের দলবদলুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন না। তারা ওখানেও (তৃণমূলে) লুটে স্বচ্ছন্দ ছিলেন, এখন মনে করছেন, এখানে এসেও সেটা বজায় রাখবেন। বিজেপিতে এ সব চলবে না।’

    গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, দলের রাজ্য সভাপতির এই বার্তা পেয়ে খুশি বিজেপির নিচু তলার কর্মীদের একটা বড় অংশ। কারণ, তাঁদের অনেকেরই আশঙ্কা, দলের দরজা একবার খুলে দিলেই তৃণমূলের দাগি নেতাদের অনেকেই বর্তমান শাসকদলের সঙ্গে থাকার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। উত্তর ২৪ পরগনার এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘স্থানীয় স্তরে দাগি তৃণমূল নেতাদের উপর বিরক্ত হয়ে বহু মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এখন সেই দাগিদেরই যদি মানুষ পদ্ম ঝান্ডা হাতে দেখেন, তাতে বিজেপিরই ভাবমূর্তি খারাপ হবে। তবে শমীক ভট্টাচার্য বোল্ডার ফেলার কথা বলার পরে আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত।’

    বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা তৃণমূলের এক মুখপাত্র বিজেপির দরজায় বোল্ডার ফেলার কথা শুনে মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দলের কে কী কারণে শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলছেন, বলতে পারব না। তবে আমার অবস্থান স্পষ্ট। বিজেপিকে খুশি করার জন্য নয়, মানুষের কাছে জবাবদিহি করার জন্য নিজের দলের ভুলগুলোর কথা প্রকাশ্যে বলছি।’

  • Link to this news (এই সময়)