সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
বাঙালির দুর্গাপুজোকে বিশ্বজনীন করে তুলতে চাইছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ ইতিমধ্যেই কয়েক বছর আগে বাঙালির এই চিরন্তন উৎসবকে ‘ইনট্যানজিবল হেরিটেজ’ তকমা দিয়েছে ইউনেস্কো। তবে বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে সরকারে আসা বিজেপি চাইছে, আক্ষরিক অর্থেই দুর্গোৎসবের বিশ্বায়ন হোক। দিল্লিতে বিজেপি সূত্রের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা এবং বিশিষ্টদের এ বার পুজোয় বাংলায় আমন্ত্রণ জানানো হবে৷ উৎসবের কলকাতায় এ বছর থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং–সহ হেভিওয়েট বিজেপি নেতারা।
গত বছর দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে দুর্গাপুজোয় যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ বার সব ঠিক থাকলে কলকাতাতেই পুজো দিতে পারেন নরেন্দ্র মোদী। বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই তৈরি করা হবে দুর্গাপুজোকেন্দ্রীক বিশেষ পরিকল্পনা — জানা যাচ্ছে রাজধানীর পদ্ম শিবির সূত্রে।
তবে বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বজনীন করতে গিয়ে পুজোর মূল ভাবধারায় কোনও বদল হবে না, মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। পুজোর বিশ্বায়নের ভাবনার রূপরেখা তৈরির কাজে জোড়া হতে পারে ‘ওভারসিজ় ফ্রেন্ড অফ বিজেপি’- সংগঠনকে৷ দলের ‘বিদেশ বিভাগ’-এর অধীনস্ত প্রভাবশালী এই শাখা সংগঠন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় আছে৷ ১৯৯১–এ প্রতিষ্ঠার পরে আপাতত তারা আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা–সহ ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সক্রিয়। বিজেপি চাইছে, এমন সংগঠনের সাহায্যে বাংলার পুজোর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি ও ভারতীয়দের আরও একাত্ম করতে।
পঞ্জিকা মেনে মাতৃ আরাধনার পরে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করেও থাকবে চোখধাঁধানো পরিকল্পনা, দাবি সূত্রের৷ তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর ভাসানকে কেন্দ্র করে যে কার্নিভালের আয়োজন হতো, সেই পরিকল্পনাতেও নামবদল–সহ বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।