• জয়ন্তীর ৪৩৩ পরিবারকে পুনর্বাসন, দেওয়া হবে জমি ও আর্থিক প্যাকেজ
    এই সময় | ০১ জুন ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার: এ বার জয়ন্তী বনবস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকা থেকে তাঁদের সরিয়ে রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য উপযুক্ত আবাসভূমি গড়ে তোলার জন্য এই উদ্যোগ। আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের মেচপাড়া চা-বাগান সংলগ্ন বিজয়গড় এলাকার ৫০ একর সরকারি জমিতে তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে। ওই এলাকায় আর্থ মুভারের সাহায্যে আগাছা পরিষ্কার, জমি সমতল করার কাজ শুরু হয়েছে। বনদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জয়ন্তীর বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক বসতি গড়ে তোলা হবে।

    সেখানে আলো, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, রাস্তা-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নাগরিক পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে। জয়ন্তীর প্রতিটি পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ও আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হবে। পরিবারের স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে পাবেন ১৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া পরিবারের যে সব সদস্যের বয়স ১৮ বছরের বেশি, তাঁরাও পৃথক ভাবে ১৫ লক্ষ টাকা পাবেন। প্রথম ধাপে মোট অর্থের অর্ধেক, দ্বিতীয় ধাপে বাকি অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। পরিবার পিছু দেওয়া হবে প্রায় ৩ কাঠা জমি।

    বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকা থেকে এর আগেই ভুটিয়া বস্তি এবং গাঙ্গুটিয়া বস্তির বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে। এ বার সেই বনছায়ার পাশেই নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি করে জয়ন্তীর বাসিন্দাদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে জেলা স্তরে মনিটরিং কমিটির বৈঠকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। কলকাতায় স্টেট লেভেল মনিটরিং কমিটির বৈঠকে অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    বর্তমানে জয়ন্তী এলাকার ৪৩৩টি পরিবার পুনর্বাসনের জন্য সম্মতি জানিয়েছে। অনিচ্ছুক ১২টি পরিবার। কেন ওই পরিবারগুলি পুনর্বাসনে রাজি হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। যদিও বনদপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কাউকে জোর করে স্থানান্তর করা হবে না। যাঁরা আপাতত রাজি নন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধাগুলি বোঝানোর চেষ্টা চলছে। পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে আর্থিক প্যাকেজ বা জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই বলে মনে করেন বনকর্তারা।

    বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক শীর্ষ বনকর্তা বলেন, 'দেশের অধিকাংশ টাইগার রিজার্ভে ১৯৯০-এর পরে কোর এলাকা থেকে জনবসতি সরানো হয়েছে। কিন্তু বক্সা এখনও প্রায় ৩৫ বছর পিছিয়ে রয়েছে। কোর এলাকায় জয়ন্তী-সহ প্রায় ১৫টি গ্রাম রয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে বাঘের স্বাভাবিক বিচরণ ও বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। গত তিন দশকে মধ্যপ্রদেশের কানহা টাইগার রিজার্ভে কয়েকশো পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। বক্সাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)