• বীরভূমের থেকে বিধানসভায়! মন্ত্রী হতে পারেন দুধকুমার
    আজকাল | ০১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বীরভূমের রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ দুধকুমার মণ্ডল। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম। একাধিক নির্বাচনী পরাজয় এবং সাংগঠনিক পরিশ্রমের পর অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে এবার প্রথমবারের জন্য বিধানসভায় পা রাখতে চলেছেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন দুধকুমার মণ্ডল। ১৯৮৮ সালে ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই জয়ী হন। এরপর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ স্তরে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় স্তরের রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁকে ধীরে ধীরে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতায় পরিণত করে।

    ২০১১ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। ২০১৬ সালে রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে লড়েও পরাজিত হন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, সেখানেও সাফল্য অধরা থাকে। কিন্তু বারবার পরাজয়ের পরেও তিনি রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি। সংগঠনের কাজ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন নিরলসভাবে। ২০১৫ সালে বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। সেই দীর্ঘ লড়াইয়েরই পুরস্কার মিলেছে ২০২৬ সালে।

    তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও দুধকুমার মণ্ডলের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিশেষ দিক তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তাঁর নামের সঙ্গে তাঁর অভ্যাসের যেন এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। দুধের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই গভীর যে জীবনের প্রতিটি দিনেই দুধ তাঁর খাদ্যতালিকার অপরিহার্য অংশ। সকালের খাবারে কখনও দুধ-মুড়ি, কখনও দুধ-রুটি, আবার রাতের খাবারের পর এক গ্লাস দুধ— এই অভ্যাস আজও অটুট।

    পরিবারের সদস্যদের কথায়, ছোটবেলা থেকেই দুধের প্রতি তাঁর ছিল অদ্ভুত আকর্ষণ। ময়ূরেশ্বরের ব্রাহ্মণবহড়া গ্রামের সমৃদ্ধ কৃষক পরিবারে জন্ম দুধকুমারের। সেই সময় তাঁদের যৌথ পরিবারের গোয়ালে ছিল একাধিক গোরু, ফলে দুধের অভাব ছিল না কখনও। শৈশব থেকেই দুধ খাওয়ার প্রতি তাঁর অসাধারণ অনুরাগ দেখে মা ভাগীরথী দেবী আদর করে তাঁর নাম রাখেন দুধকুমার। সেই নামই পরে তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

    বর্তমানে তিনি কোটাসুরে বসবাস করলেও এখনও প্রতিদিন খাঁটি দুধ সংগ্রহের ব্যাপারে কোনও আপস করেন না। এলাকার এক কৃষক পরিবারের কাছ থেকে নিয়মিত দুধ নিয়ে আসেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততা, নির্বাচনী প্রচার কিংবা সাংগঠনিক সফর— যেখানেই থাকুন না কেন, দিনের শেষে এক গ্লাস দুধ তাঁর চাই-ই চাই।

    মাছ, মাংস, বিরিয়ানি কিংবা মোগলাই খাবারের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ নেই তাঁর। বরং সাধারণ দুধভাতই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার। রাজনৈতিক জীবনে যেমন ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং মাটির মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি রয়ে গিয়েছেন অত্যন্ত সহজ-সরল এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একজন মানুষ।

    দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ তিনি বিধায়ক। হতে চলেছেন মন্ত্রীও। আর সেই যাত্রাপথে দুধকুমার মণ্ডল শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা হিসেবেই নন, নিজের স্বতন্ত্র জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেও বীরভূমের রাজনৈতিক পরিসরে এক পরিচিত এবং ব্যতিক্রমী চরিত্র হয়ে উঠেছেন।
  • Link to this news (আজকাল)