শনিবারের পর রবিবার ফের এনকাউন্টার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। পুলিশের গুলিতে গুরুতর জখম নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সিরাজ। গুলিতে আহত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে পুলিশের তরফে। অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পিস্তল ও কার্তুজ।
জানা গিয়েছে, গত ৩০ মে গাজিয়াবাদের লোনি বর্ডার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ ছিল, সিরাজ নামে এলাকারই ভিনধর্মী এক যুবক তিনমাস আগে তাঁর ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, হুমকি দেওয়া হয় ঘটনার কথা কাউকে বললে খুন করে দেওয়া হবে। ভয়ে ওই নাবালিকা কাউকে কিছু না জানালেও পরে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে পরিবারের লোকেরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানেই ধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর পরিবারের তরফে চাপ দেওয়া হলে সব কথা জানায় মেয়েটি। এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার মা।
এলাকার বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জরও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযানে নামে পুলিশ। রবিবার রাতে সেবাধাম টিলা মোড় রোডে পুলিশের টহল চলাকালীন সেখান থেকে যাচ্ছিল অভিযুক্ত যুবক সিরাজ। তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও স্কুটার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। এই অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে এলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অভিযুক্ত। পালটা অভিযুক্তের পায়ে গুলি চালায় পুলিশ। সিরাজকে গ্রেপ্তার করে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পস্কো ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সিরাজ।
উল্লেখ্য, ইদের দিন একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছিল আসাদ নামে এক যুবকের। গত বৃহস্পতিবার গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় ১৭ বছর বয়সি সূর্যপ্রতাপ চৌহান নামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে আসাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারার পর দলবল নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় আসাদ। গুরুতর জখম অবস্থায় সূর্যপ্রতাপকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় ১৭ বছরের কিশোরের। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পালটা গুলি চালায় আসাদ ও তার দলবল। পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় আসাদের।