ভ্যানে কয়লা ফেরি থেকে সাতমহলা বাড়ি! প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গ্রেপ্তার হতেই ‘খোকন চোর’ গান
প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
ভ্যানের ঠেলাগাড়িতে বাড়ি বাড়ি কয়লা দেওয়া দিয়ে জীবিকা শুরু। তারপর রাজনীতির ময়দানে পা রাখা। বাম আমল থেকে কয়লা, বালিতে পসার জমিয়ে সামান্য কাউন্সিলর হয়েই বর্ধমানের বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠা। ‘সাতমহলা’ বাড়ি থেকে দামি গাড়ি, বাইপাসের ধারের বিশাল জমির মালিক। ভোট পরবর্তী হিংসা-সহ একের পর এক অভিযোগ জমা পড়েছিল। রবিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে কাঞ্চননগরে তাঁর বাড়ির সামনে রীতিমত উচ্ছ্বাস প্রতিবেশীদের! বেজে উঠল ‘খোকন চোর’ গান। গেরুয়া আবির খেলে, লাড্ডু বিলিয়ে প্রাক্তন বিধায়কের জেলযাত্রা সেলিব্রেট করলেন এলাকাবাসী।
বাম আমলে বর্ধমান পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর নির্বাচিত হন খোকন দাস। ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেবার পুরপ্রধান হয়েছিলেন তৃণমূলের স্বরূপ দত্ত। কিন্ত খোকন দাসই পুরসভার ‘ডিফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হয়ে ওঠেন। প্রতিপত্তি বাড়ে ক্রমশ। বেআইনি বালি কারবার, সুদের কারবার, ঠিকাদারি থেকে শুরু করে বেআইনি নির্মাণের মতো কাজে সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। বর্ধমানের কাঞ্চননগরে বলিউড শিল্পীদের নিয়ে প্রতি বছর কাঞ্চন উৎসবে কয়েক কোটি টাকা খরচ করতেন।
২০২১ সালে বর্ধমান শহরে ভোটবর্তী হিংসায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হন, বাড়ি ভাঙচুর হয়, হামলার শিকার হন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন খোকনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল। সিবিআই তদন্ত হলেও এতদিন গ্রেপ্তার হননি খোকন।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ফের অভিযোগ জমা পড়ে খোকনের বিরুদ্ধে। ভিনরাজ্যে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশি জালে ধরা পড়েন খোকন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারা। খোকন দাসের বিরুদ্ধে এতদিন তাঁদের বিস্তর অভিযোগ, ক্ষোভ ছিল। তাই গ্রেপ্তারির খবর পেয়ে স্বস্তিতে তাঁরা। ‘খোকন চোর’ গান বাজিয়ে চলে নাচগান, বিলি করা হয় লাড্ডু, আবির খেলাও হয়।