নয়াদিল্লি: উত্তরপত্র মূল্যায়নে যে বিভ্রাট হয়েছে, তা আগেই মেনে নিয়েছিল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। কিন্তু অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) নামে যে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে পড়ুয়াদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছিল, তার সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কিন্তু তখন সিবিএসই এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অবশেষে পোর্টালের দুর্বলতা মেনে নিল তারা। এর আগে অবশ্য কেন্দ্র ও সিবিএসই এই মূল্যায়ন পদ্ধতিকে ক্লিনচিট দিয়েছিল। এদিন এক্স হ্যান্ডলে বোর্ড জানিয়েছে, জনমানসে ওএসএম পোর্টালের যে সব দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তার উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং আইআইটির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি টিম কয়েক দিন ধরেই ওএসএমের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সিবিএসই জানিয়েছে, যে দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অন্য কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছে, ওএসএম পোর্টালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের কাজও শুরু হয়েছে।
এদিকে অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নিসর্গ অধিকারী নামে এক অধিকারী নামে এক এথিক্যাল হ্যাকার। ১৯ বছর বয়সি ওই পড়ুয়া দাবি করেছিলেন, তিনি বোর্ডের অন-স্ক্রিন মার্কিন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সার্ভারে ঢুকতে সক্ষম হন। এছাড়া ওএসএম পোর্টালে যে কেউ কোনো পড়ুয়ার নম্বর দেখতে বা বদলে দিতেও পারে বলে সিবিএসইকে অনেক আগেই জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ওই তরুণ। তবে, এদিন নিজেদের বিবৃতিতে সিবিএসই এথিক্যাল হ্যাকারদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, কয়েকজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এদিকে, সিবিএসইর নম্বর বিভ্রাটের শিকার দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়োও পোস্ট করেছেন তিনি। নম্বর বিভ্রাট নিয়ে মুখ খোলায় ওই পড়ুয়াদের ‘দেশবিরোধী’, ‘পাকিস্তানি’ তকমা পর্যন্ত দেওয়া হয়। ভিডিয়োর সঙ্গে রাহুলের তীর্যক মন্তব্য, ‘দেশবিরোধী এজেন্টদের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ আলোচনা।’ একইসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘বেদান্ত ও তার বন্ধুরা অত্যন্ত মেধাবী ও সাহসী ভারতীয়। তারা সিবিএসই ও মোদি সরকারকে কিছু সহজ প্রশ্ন করেছিল। কিন্তু উত্তরের পরিবর্তে তাদের কেবল অপমানই জুটল। উল্লেখ্য, দিল্লি বাসিন্দা বেদান্ত সিবিএসইর কাছে উত্তরপত্র পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেদান্ত জানান, তাঁকে যে ফিজিক্সের উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেটি তাঁর নয়। রবিবার কংগ্রেসের তরফেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, সিবিএসই দ্বাদশের ২০ লক্ষ পড়ুয়ার উত্তরপত্রের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। ওই উত্তরপত্র এখন প্রকাশ্যেই মিলছে।