সারের জোগান কম, নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে কৃষিক্ষেত্রে
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; প্রকাশ্যে ‘সব কুছ ঠিক হ্যায়’ বলে প্রচার করলেও আদতে অন্দরে অনটনের মুখেই মোদি সরকার। পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তা আরও বেড়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সারের জোগান কম হওয়ায় এবার চাষের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে। এমনকি দেশে খাদ্য সুরক্ষাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সারসচিব রজত কুমার মিশ্র সরকারের এক গোপন বৈঠকে সার সঙ্কট নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখা দেওয়ার পরেই সরকারের স্নায়ুচাপ বেড়ে গিয়েছে। তাই কম সার তথা প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করে কী করে উন্নত বীজে ফসল ফলানো যায়, তারই লক্ষ্যে আজ ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ‘খেত বাঁচাও অভিযান।’ কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান নামছেন মাঠে। মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার রামসিয়া গ্রামে এই অভিযান কর্মসূচির সূচনা করবেন।
বিশস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারের বৈঠকে সার সচিব বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিতে আমাদের উপর প্রভাব পড়েছে। মোটেই নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকা যাচ্ছে না। সার ভর্তি ১৬টি জাহাজ মার্চ মাস থেকে হরমুজে আটকে। সৌদি আরব থেকেও ইউরিয়া, ডিএপি, অ্যামোনিয়া, সালফার আসছে না। মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, কৃষি রাষ্ট্রমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে ‘ক্লোজডোর’ ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সারসচিব বলেছেন, ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সাপ্লাই দেয় মরক্কো। কিন্তু সালফারের অভাব হওয়ায় তারাও ডিএপি দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। রাশিয়া থেকেও যে নেওয়া হবে, তার উপায় নেই। কারণ, ইউক্রেন হামলায় রাশিয়ার সার কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে চর্তুদিক থেকেই আমাদের অবস্থা মোটেই ভালো নয় বলেই সতর্ক করেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে সার মজুতদারি আটকাতেও সরকার অভিযানে নামবে। সরকারি নথিতে দেখা যাচ্ছে, এক বছর আগেও যেখানে কম ডিএপি বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার আচমকাই তা বেড়ে গিয়েছে। একইভাবে গোটা দেশে অতিরিক্ত ইউরিয়াও বিক্রি হয়েছে। আচমকা এত বেশি ইউরিয়া এবং ডিএপি বিক্রি হওয়ায় মজুতদারির সম্ভাবনা যেমন প্রবল, তেমনি কৃত্রিম অভাব তৈরিরও আশঙ্কা। ফলে গরিব কৃষককে যেমন চড়া দামে সার কিনতে হবে। আবার সময়ে পর্যাপ্ত সার না পেলে ফসল মার খাবে।
তাই নিরুপায় হয়ে এখন খেত বাঁচাও অভিযানে নেমে কেমিক্যাল যুক্ত সারের কম ব্যবহারে নামছে কেন্দ্র। গোবর, খড় পাতা পচার মতো প্রাকৃতিক সার ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে। কিন্তু এতে আচমকা যে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। যা খাদ্য সুরক্ষায় প্রশ্নচিহ্নও তৈরি করছে। তবে কৃষক এবং নাগরিকদের জন্য মোদি সরকার কত সক্রিয় তা প্রচারে তুলে ধরতেই আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে খেত বাঁচাও অভিযান। ১৬ হাজার কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক, রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে নামছেন মন্ত্রী শিবরাজ।