যৌতুক না পেয়ে নির্যাতন করে অন্তঃসত্ত্বাকে খুনের অভিযোগ
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, চাঁচল: ভিনরাজ্যে নির্যাতনের পর অন্তঃসত্ত্বাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে মালদহের চাঁচল থানার সাহাবাজপুর গ্রামে।
মৃতার পরিবারের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার করা হচ্ছিল। নির্যাতনের জেরেই মৃত্যু হয়েছে বছর কুড়ির সামিমা আক্তারির। আট মাস আগে সাহাবাজপুরের বাসিন্দা সামিমার বিয়ে হয়েছিল উমরপুর কাশিমপুরের আরিফ হোসেনের সঙ্গে। এক মাস পরেই স্ত্রীকে নিয়ে গুরুগ্রামের বাদশাপুর থানার ফাজিলপুর ধানী এলাকায় চলে যান আরিফ। সেখানে থাকতেন তাঁর বাবা-মা। পরিবারের সবাই বিভিন্ন কাজ করতেন।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ,বিয়ের সময় যৌতুক দেওয়া হয়নি বলে কিছুদিনের মধ্যেই সামিমার উপর চাপ দিতে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকরা। অভিযোগ, রাগে সামিমাকে সেখানে পরিচারিকার কাজে নিযুক্ত করা হয়। শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামীর চাপে বাধ্য হয়ে সেই কাজ করতেন সামিমা।
পরিবারের দাবি, তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন সামিমা। সেজন্য নিয়মিত কাজে যেতে পারছিলেন না। তা নিয়েই শুরু হয় অশান্তি। স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ। ইদে অশান্তি চরমে ওঠে। ওই দিন সামিমার মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। এমনকি বিদ্যুতের শক দিয়েও নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি। অভিযোগ, সেই নির্যাতনের জেরেই মৃত্যু হয়েছে সামিমার। শনিবার গভীর রাতে চাঁচলের বাড়িতে পৌঁছয় তাঁর দেহ। পরিবারের দাবি, সামিমার শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল। মৃতার মা ফেন্সি বিবি বলেন, মেয়ে সুন্দরী ছিল বলে যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করেছিল আরিফ। পরে বারবার যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। আমরা না দিতে পারায় মেয়েকে হরিয়ানায় নিয়ে গিয়ে পরিচারিকার কাজ করানো হয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও রেহাই দেয়নি। শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেলল মেয়েকে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিয়ানা পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী আরিফকে আটক করেছে। তবে, শ্বশুর ও শাশুড়ি পলাতক।