নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাজ্যে পালাবদলের পর বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জায়গা জবরদখলমুক্ত করার ব্যাপারে আশাবাদী হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই হাসপাতালের সিটি স্ক্যান সেন্টার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফের যাতে ফাঁকা জায়গায় কেউ বসে যেতে না পারে, তারজন্য দখলমুক্ত এলাকা সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে বলে বাঁকুড়া মেডিকেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। মেডিকেলের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, গোবিন্দনগর ও লোকপুর ক্যাম্পাস মিলিয়ে হাসপাতালের বেশ কয়েক কাঠা জায়গা জবরদখল হয়ে রয়েছে। সেসব আমরা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। দখলমুক্ত হলেই সীমানা প্রাচীর দিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গা ঘিরে ফেলা হবে।
হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, শহরের বাসিন্দা এক মাতব্বর রাজনৈতিক মদতে হাসপাতালে মৌরসিপাট্টা চালাত। তার মদতেই সবচেয়ে বেশি জায়গা বেদখল হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়ায় ওই ব্যক্তি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তখন থেকেই আমরা হাসপাতালের জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিই। আগামীদিনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় পুরদমে ওই কাজ চলবে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকপুর থেকে গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জায়গা রয়েছে। লোকপুর ক্যাম্পাসে রয়েছে মেডিকেল কলেজের ভবন। সেখানে মূলত পঠনপাঠন হয়। গোবিন্দনগর ক্যাম্পাসে চলে চিকিৎসা। সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়াও রাস্তার দু’পাশে ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল ও কর্মী-আধিকারিকদের আবাসন রয়েছে। লোকপুর ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে অনেকে বসবাস শুরু করেছে। গোবিন্দনগর ক্যাম্পাসে হাসপাতালের জায়গায় চুটিয়ে অনেকে ব্যবসা করছে। জায়গা দখলের পাশাপাশি হাসপাতালের ক্যান্টিন, নতুন ভবনেও ওই মাতব্বর দাদাগিরি চালাত বলে অভিযোগ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর আত্মীয়দের থাকার জন্য সরকারি ভবনে কার্যত ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ নেওয়া হত।
রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে রাতে থাকার জন্য ৫০-১০০ টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ। হাসপাতালের ক্যান্টিন চালানোর বরাতও ওই ব্যক্তি অনুগামীদের মাধ্যমে নিজেই নিত। বকলমে সে ক্যান্টিন চালাত। প্রতিযোগী না থাকার কারণে কম দামে অনেক টেন্ডার হাসপাতালকে করতে হয়। ফলে হাসপাতালের অন্দরেও আধিকারিকরা ওই ব্যক্তিকে এলাকার ‘ত্রাস’ বলে অবিহিত করত।
ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বারবে বলে আধিকারিকরা আশা করছেন। তারফলে নতুন নতুন ভবন তৈরি হতে পারে। তারজন্য জায়গা প্রয়োজন।
হাসপাতালের জায়গা জবরদখল হয়ে থাকলে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরেও তা কাজে লাগানো নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হবে। তারজন্য পুরো দমে কাজ শুরুর আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জায়গা দখলমুক্ত করতে চাইছে। আগামী দিনে হাসপাতাল চত্বরে থাকা বেহাল উদ্যান হয় মেরামত, অথবা তা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। বাঁকুড়া পুরসভার তরফে ওইসব উদ্যান তৈরি হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বেহাল হয়ে পড়েছে।