• গ্রাফটিংয়ে দেড়শোর বেশি প্রজাতির আম ফলিয়ে বাজিমাত জিয়াগঞ্জের কুশলের
    বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, লালবাগ : স্বাদ ও গন্ধের জন্য নবাবি তালুক মুর্শিবাদের আমের সুখ্যাতি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও পৌঁছেছে। মুর্শিদাবাদের নবাবের ইতিহাস সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা গিয়েছে, আম খুব প্রিয় ছিল নবাবদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশেই আমের হরেক প্রজাতির গাছ এনে নিজেদের বাগানে লাগিয়েছিলেন নবাবরা। এই বাগানে ২০০ টির বেশি প্রজাতির আম গাছ ছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক আমবাগান কেটে বসতি গড়ে উঠেছে। কিছু, কিছু আমবাগানের অস্তিত্ব থাকলেও সেখানে হরেক প্রজাতির দেখা মেলে না। ফলে নবাবি আমলের অনেক প্রজাতির আম জেলার মাটি থেকে হারিয়েছে। আবার অনেক প্রজাতির আম অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ে গিয়েছে। নবাবি আমলের মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রজাতির আমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করছেন জিয়াগঞ্জের আম চাষি তথা গবেষক কুশল ঘোষ। গ্রাফটিংএর সাহায্যে  একই গাছে দেড়শোর বেশি প্রজাতির আম ফলিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক সঙ্করায়ন পদ্ধতির সাহায্যে নতুন প্রজাতির আম বেলচম্পা, ল্যাম্বো, শ্যামভোগ উৎপন্ন করেছেন তিনি। কুশলবাবুর তৈরি মিশ্র প্রজাতির আমগুলিও স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। 

    জিয়াগঞ্জ শহরের বাগডহর মোড় থেকে উত্তরে ১০০ মিটার দূরে কুশল ঘোষের আমবাগান। জিয়াগঞ্জ, লালবাগ, ডোমকল, জঙ্গিপুর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আমবাগান থাকলেও বাগডহরে কুশলবাবুর আমবাগান উদ্ভাবনীর  বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। কুশলবাবুর বাগানে বেশ কয়েকটি আম গাছ রয়েছে সেগুলির কোনোটি ১৬৫ প্রজাতির তো কোনোটি ১৩০ প্রজাতির। আবার ১০০ র বেশি প্রজাতির আমও হয়। 

    কুশলবাবু বলেন, নতুন কিছু করার ইচ্ছা সবসময় ছিল। ২০০০ সালে এক উদ্যান পালন আধিকারিকের থেকে গ্রাফটিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির আম ফলানোর পদ্ধতি হাতেকলমে শিখে নিই। এরপরে জেলা, রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন প্রজাতির আমের শাখা সংগ্রহ করে নিজের বাগানের গাছে গ্রাফটিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০২ সাল থেকে একই গাছে বিভিন্ন প্রজাতির কলম বসানোর কাজ শুরু করি। দু’বছর পর থেকে শুরু ফল পাওয়া। এরপরেই উৎসাহ আরও বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে একই গাছে প্রজাতির সংখ্যাও বেড়েছে। কুশলবাবুর আরও দাবি, গ্রাফটিং এর সাহায্যে একটি গাছে কোহিতুর, বোম্বাই, হিমসাগর, ল্যাংড়া, বিমলি, বিরা, রানিপসন্দ, আলফানসো, ফজলি, গোলাপখাস, নীলম, ল্যাংড়া, লালমোহন, মধুঝরা, নুরজাহান প্রভৃতি মিলিয়ে সর্বাধিক ১৬৫ প্রজাতির আম ফলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এখন প্রজাতির সংখ্যাও কমেছে। গত বছর একটি গাছে একশোর বেশি প্রজাতির আম হলেও চলতি বছরে ৩০টি প্রজাতির মতো আম হয়েছে। আরও বেশ কিছু নতুন প্রজাতির আম তৈরির প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে একটি উন্নত শঙ্কর প্রজাতির আমের ফলন হবে। 

    এদিকে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে একের পর এক আম বাগান হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে মুর্শিদাবাদের আমের ভ্যারাইটির অস্তিত্ব সংকটে। মুর্শিদাবাদের রকমারি প্রজাতির আম সংরক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন কুশলবাবু।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)