সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল রোগী কল্যাণ সমিতি
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য একটি কমিটির গঠন করা হয়েছে। যারা অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণ করবে। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার জন্য নির্দিষ্ট রেট চার্ট থাকবে। শনিবার নদীয়া জেলা সদর ও শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি, হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত সরকার সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কৃষ্ণনগর উত্তরের তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগর দক্ষিণের সাধন ঘোষ রোগী কল্যাণ সমিতির একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানেই রোগীদের থেকে অ্যাম্বুলেন্সের লাগামছাড়া ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
হাসপাতাল সুপার বলেন, ‘আমাদের আটকে থাকা কাজ, হাসপাতাল দালাল মুক্ত করা ও হাসপাতালকে দখলমুক্ত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া চূড়ান্ত করবেন। আর তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স থাকবে না। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার বিজেপির বিধায়ক বলেন, রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আমরা একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিষেবা যাতে ব্যাহত না সেই দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী কর্মীদের একটি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়। সেটি বাতিল করে নতুনভাবে টেন্ডার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ঠিক করার ব্যাপারে জোর দেওয়া উচিত।
গত মার্চ মাসে নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের অমানবিকতার শিকার হয়েছিল প্রসূতির পরিবারের লোকজন। সাধারণ প্রসূতি ও সদ্যোজাতকে বাড়ি পোঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি নিশ্চয়যান রয়েছে। কিন্তু, একজন প্রসূতির পরিবারের কাছ থেকে নিশ্চয়যান চালক ৩০০ টাকা ভাড়া দাবি করেছিল। প্রসূতির পরিবারের লোকজন তা দিতে না পারায়, প্রসূতিকে মাঝরাস্তা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে এনে ফের হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে আসে ওই নিশ্চয়যান চালক। যার জেরে ওই চালককে হাসপাতালের তরফ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। জেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের চালকদের সিন্ডিকেটের জেরে সমস্যায় পড়তে হয় বহু রোগী ও তাদের পরিবার পরিজনকে। বিপদগ্রস্ত রোগীর পরিবারের থেকে লাগামছাড়া ভাড়া চাওয়া হয়। নিরুপায় হয়েই তাদের দাবিমতো টাকা দিতে হয় অসহায় পরিবারগুলিকে। এমনকি কোনো রোগীকে কলকাতায় রেফার করা হলে, ফুসলিয়ে ওই রোগীকে বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করায় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। সেখানে থেকেও তাঁরা মোটা টাকা কমিশন পায়। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তালিকার বাইরেও অনেক অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল চত্বরে থাকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালে মোট ৩২টি নিশ্চয়যান রয়েছে। আর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ১২টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সেগুলি দ্রুত সমাধানের উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ডাক্তারদের অনিয়মিত ওয়ার্ড ভিজিট নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। ওই বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের ভিতরে বিভিন্ন বেসরকারি প্যাথলজি সংস্থার প্রতিনিধি ঢুকে রোগীর পরিবারের উপর তাদের ল্যাবে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে এমন অভিযোগও রয়েছে।