বিএসএফের পরিদর্শনের পর জমি দখলের শঙ্কা, জলঙ্গিতে অবরোধ
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, ডোমকল: জমি অধিগ্রহণ হলে হারাতে হবে চাষের জমি। সেই আশঙ্কায় এবারে জলঙ্গিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন কৃষকরা। রবিবার সকালে স্থানীয় ভূতগাড়ির মাঠের কাছে জলঙ্গি-সাগরপাড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন তাঁরা। ঘটনায় প্রায় ঘণ্টাখানেকের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ওপার বাংলার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্ত এলাকাতেও পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি-সহ একাধিক বিষয় মাথায় রেখে সীমান্ত এলাকায় একটি বড় আকারের বিএসএফ ছাউনি তৈরির প্রস্তাবনা নিয়ে বছরখানেক ধরে জল্পনা চলছিল। যদিও সেই ছাউনি আদৌ হবে কি না, হলে কোথায় হবে, সেসব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল জলঙ্গির ভূতগাড়ির মাঠ এলাকায় ওই ক্যাম্প তৈরি হতে পারে। আর সেই সম্ভাবনার কথা সামনে আসতেই কৃষিজমি অধিগ্রহণের আশঙ্কায় আপত্তি জানাতে শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, এই বিষয়ে তাঁরা আগেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসএফ ছাউনি হোক, কিন্তু সেটা চাষিদের জমি অধিগ্রহণ করে নয়। অভিযোগ, এরপরও রবিবার সকালে আচমকাই বিএসএফের জওয়ানরা এসে ওই জমির সীমানা চিহ্নিত করে কয়েকটি লাল পতাকা পুঁতে দেন। সেই খবর ছড়াতেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন। রাস্তায় বাঁশ ফেলে অবরোধ গড়ে তোলেন তাঁরা। ফলে বন্ধ হয় যান চলাচল। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে অবরোধ চলার পর বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের আশ্বাসেই অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ মণ্ডল বলেন, আমরা যে যার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ দেখি বিএসএফের লোকজন এসে জমির মধ্যে ছোটো ছোটো লাল পতাকা পুঁতছে। আমরা তাতে আপত্তি জানাই। আগেও আমরা জানিয়েছি, ক্যাম্প হোক, কিন্তু আমাদের এই জমিতে নয়। নদীভাঙনে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি। এখন সম্বল বলতে এই জমি আর বাড়িটুকু। তারপরও কেন আমাদের জমির দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে বুঝছি না। তাই বাধ্য হয়েই বিক্ষোভে নেমেছি। আমরা ক্যাম্পের বিরোধী নই। কিন্তু কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে নয়, বিকল্প জায়গায় ক্যাম্প হোক। যদিও প্রশাসন সূত্রে দাবি, পরিদর্শন হলেও এখনও পর্যন্ত ওই এলাকায় বিএসএফের স্থায়ী ছাউনি তৈরির বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।