শ্লীলতাহানি, পুলিশের গাড়িতে হামলায় গ্রেপ্তার ২ কাউন্সিলার
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি, পুলিশের উপর হামলা সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল দক্ষিণ দমদম ও ভাটপাড়ার দুই কাউন্সিলারকে। শনিবার রাতে দক্ষিণ দমদমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা চেয়ারম্যান পারিষদ (জল) মৃন্ময় দাস ওরফে বুবলাইকে গ্রেপ্তার করে নাগেরবাজার থানার পুলিশ। ওই রাতে বিজেপি কর্মীরা বেদিয়াপাড়ায় মৃন্ময়বাবুর দোতলা অফিসঘর ভেঙে তছনছ করে দেয়। অন্যদিকে, ভাটপাড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মনোজ পান্ডে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছিলেন। পুলিশের গাড়িতে হামলার এক পুরানো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার দক্ষিণ দমদমের বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দা মালতি বেনবংশী কাউন্সিলার মৃন্ময় দাসের নামে নাগেরবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, তাঁদের পারিবারিক বিল্ডার্সের ব্যবসা। সেখানে এসে নিয়মিত তোলাবাজি, জোর করে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে যেতেন মৃন্ময়বাবু। প্রতিবাদ করায় তাঁর শ্লীলতাহানি পর্যন্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছিল নাগেরবাজার থানা। শনিবার মধ্যরাতে দমদম স্টেশনে যখন হকার উচ্ছেদ চলছিল, তখন কয়েকশো মিটার দূরে বেদিয়াপাড়ায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূল কার্যালয় তথা মৃন্ময়বাবুর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ওই বড়ো পার্টি অফিস ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। ওই এলাকায় লাগানো বিশাল এলইডি টিভি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নাগেরবাজার থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী বেদিয়াপাড়া সহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মৃন্ময়বাবুকে গ্রেপ্তার করে। এদিন ধৃতকে বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মালতিদেবীর স্বামী বাপি বেনবংশী বলেন, ২০০২ সাল থেকে আমার বিল্ডার্সের ব্যবসা। ২০১৮ সালে বিজেপিতে যোগ দিই। তারপর থেকে আমার উপর ব্যাপক অত্যাচার করা হয়েছে। আমার দোকান থেকে তোলাবাজি, জোর করে নির্মাণ সামগ্রী তুলে নিয়ে যাওয়া, বাড়িতে হামলা, স্ত্রীর শ্লীলতাহানি কিছুই বাদ দেয়নি মৃন্ময়। আমাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্ত্রী ওই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বেদিয়াপাড়ায় তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়ে বলেন, মৃন্ময়ের উপর গোটা ওয়ার্ডের মানুষ ক্ষুব্ধ। তোলাবাজি, খুন, প্রোমোটারি-রাজের বহু অভিযোগ রয়েছে ওর বিরুদ্ধে। স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে দক্ষিণ দমদম পুরসভার আরও এক চেয়ারম্যান পারিষদ (আলো) পার্থ বর্মাকে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার এক মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল লেকটাউন থানার পুলিশ।
অন্যদিকে, ভাটপাড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য পদত্যাগী কাউন্সিলার মনোজ পান্ডেকে জগদ্দল থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে জগদ্দল মেঘনা মোড় এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ছিল। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, মারধর করার মতো অজস্র অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার বাসিন্দারা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। এদিন ধৃতকে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নৈহাটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রঞ্জন কর্মকারের ঘনিষ্ঠ গুড্ডু সাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার তাঁকে নিয়ে রঞ্জনবাবুর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। যদিও কাউন্সিলার সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না।