চাকলাধাম পর্যন্ত ট্রেন চালানোর তোড়জোড়, নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা, জমি নিয়ে জট কাটল, মিলল সরকারি ছাড়পত্র
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বহু বছর ধরে ফাইলবন্দি থাকা বিড়া-চাকলা নতুন রেলপথ প্রকল্পে ফের আশার আলো। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার বিড়া স্টেশন থেকে চাকলা ধাম পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল। সম্প্রতি সরকারি ছাড়পত্র মেলায় সেই জট কাটার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে, বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছে রেল ও প্রশাসনিক মহল।
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ৬১টি রেল প্রকল্পের তালিকায় ছিল বিড়া-চাকলা রেললাইন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক অনুমোদন করায় প্রকল্পটি নতুন করে গতি পেতে চলেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাকলা সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কারণ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ভক্তদের কাছে চাকলাধাম শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। সারা বছর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য এবং বাংলাদেশের বহু ভক্ত এখানে আসেন। বিশেষ উৎসবের সময়ে ভক্তদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে চাকলাধামে যেতে হলে বাস, অটো বা টোটোর উপর নির্ভর করতে হয়। ট্রেন থেকে নেমে একাধিক পর্যায়ে যাতায়াত করতে হওয়ায় সময় ও খরচ দু’টিই বাড়ে। নতুন রেললাইন চালু হলে সেই চিত্র আমূল বদলে যেতে পারে। বিড়া থেকে সরাসরি চাকলা পর্যন্ত ট্রেন চললে ভক্তরা অনেক কম সময়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে তীর্থস্থানে পৌঁছাতে পারবেন। সেইসঙ্গে রেল সংযোগের ফলে চাকলাধামকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধুমাত্র ধর্মীয় পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে এই রেলপথ উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকার অর্থনৈতিক মানচিত্রও বদলে দিতে পারে। চাকলা মন্দির কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা নবকুমার দাস বলেন, রেললাইন চালু হলে ভালোই হয়। ভক্তদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে খুবই সুবিধা হবে। বহু ছাত্রছাত্রী এবং চাকরিজীবী প্রতিদিন বারাসত, হাবড়া, বনগাঁ কিংবা কলকাতার দিকে যাতায়াত করেন। রেল সংযোগ চালু হলে তাঁদের যাতায়াতের সময় কমবে এবং যোগাযোগ আরও সহজ হবে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা মিলবে। চাকলার বাসিন্দা সুমন মণ্ডল বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রশাসনিক জট কাটার ইঙ্গিত মিলেছে। এখন প্রশ্ন, কবে শুরু হবে কাজ? কবে চাকলাধামের পথে শোনা যাবে ট্রেনের আওয়াজ? -নিজস্ব চিত্র