পুরভোটের আগে হাওড়া শহরের ভোল বদলাতে ৪,৭০০ কোটির মাস্টার প্ল্যান
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আগামী ডিসেম্বর মাসে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হতে পারে। সেই ভোটকে সামনে রেখেই নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নে বড়োসড়ো রূপরেখা তৈরি করতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। জেলার প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়ে সবুজ সংকেত দেওয়ার পাশাপাশি নিকাশি, স্বাস্থ্য ও পানীয় জল ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমতো শহরের দীর্ঘদিনের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কারে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ ও পানীয় জলের পরিষেবা উন্নয়নেও একাধিক বৈঠক করেছেন বিজেপি বিধায়করা।
মঙ্গলবার হাওড়া পুরসভায় নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই, সঞ্জয় সিং ও রুদ্রনীল ঘোষ। বৈঠকে কেএমডিএ, সেচদপ্তর, হাওড়া পুরসভা এবং একটি বেসরকারি সংস্থার আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা যোগ দেন। জানা গিয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলে হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, দুর্নীতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং সদিচ্ছা না থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার পুরভোটের আগেই সেই প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মোট ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে কেন্দ্র এবং বাকি ৩০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। ডিপিআর তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে হাওড়া শহরে আর কোনো উন্মুক্ত নিকাশি নালা থাকবে না। ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে তৈরি হবে আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা। অলিগলির ছোটো নিকাশির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে হাওড়া পুরসভা। শহরের জমা জল পরিস্রুত করে দ্রুত গঙ্গায় ফেলার জন্য বসানো হবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক পাম্প। বিজেপির দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে জল জমার দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকটাই কমবে।
উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই বলেন, ‘হাওড়ার নিকাশি, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরানোর দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছি। আমাদের সরকারের প্রথম বাজেটেই যাতে এই মাস্টার প্ল্যানের টাকা বরাদ্দ করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।’ শুধু নিকাশি নয়, পুরভোটের আগে পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। উত্তর হাওড়ার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান সূত্র মিলেছে বলে দাবি বিজেপির। পাশাপাশি হাওড়া জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সেটিকে মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে পরিণত করা, পার্কিং সমস্যা ও বহিরাগত অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও একাধিক বৈঠক হয়েছে। বুধবার সত্যবালা আইডি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন উমেশ রাই। শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভাকে কার্যত আর্থিক সংকটের মধ্যে ফেলে রেখেছিল তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড। পুরসভার আধিকারিকদের উপর রাজনৈতিক চাপ এতটাই ছিল যে, তাঁরা স্বাধীনভাবে কোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারতেন না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়েরও চরম অভাব ছিল। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, পুরভোটের আগেই মানুষ উন্নয়নের বাস্তব ছবি দেখতে শুরু করুন।’