গভীর রাতে হকার উচ্ছেদ দমদম-উত্তরপাড়া স্টেশনে, চলল বুলডোজার, তুমুল ধস্তাধস্তি
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও চুঁচুড়া: মধ্যরাতে অপারেশন! বিরাট পুলিশ বাহিনী নামিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল দমদম ও উত্তরপাড়া স্টেশনে। মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হল হকারদের কয়েকশো গুমটি, গোটা বস্তি। বামেদের নেতৃত্বে হকার ও গৃহহারাদের প্রবল বিক্ষোভও রুখতে পারেনি অভিযান। প্রতিবাদ, হাহাকার ও চোখের জল উপেক্ষা করেই উচ্ছেদ অভিযান সফল করে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে উত্তরপাড়ায় রেলের জায়গায় থাকা সব দোকানপাট ভাঙা হলেও বিজেপির পার্টি অফিস অক্ষত থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এই উচ্ছেদের প্রতিবাদে সোমবার কলকাতায় যৌথভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন।
৩০ মে’র মধ্যে দমদম ও উত্তরপাড়া স্টেশনে রেলের জায়গায় বসে থাকা সমস্ত হকারকে উঠে যাওয়ার নোটিস দিয়েছিল রেল। তার প্রতিবাদে দুই স্টেশনে হকারদের নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি নেয় সিটু ও আইএনটিইউসি ইউনিয়ন। কিন্তু শনিবার রাতে বিপুল সংখ্যক রেল পুলিশ, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ ও র্যাফের উপস্থিতিতে বুলডোজার চলে। রাতেই স্টেশনে ছুটে আসেন সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, যুবনেতা ময়ূখ বিশ্বাস, প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ তোপদার। তিনি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েকদিন সময় চাইলেও উচ্ছেদকারীরা কর্ণপাত করেননি।
রাত ১২টা ২০ মিনিটে শেষ ট্রেন যাওয়ার পর দমদম স্টেশন ও স্টেশনের বাইরে একযোগে উচ্ছেদ শুরু করা হয়। শিয়ালদহ থেকে মালগাড়িতে করে আনা হয় বুলডোজার। স্টেশনের বাইরেও বুলডোজার পরপর দোকান ভাঙতে শুরু করে। একসময় গার্গী বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। হকাররা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে সবাইকে তাড়া করে। ভোর পর্যন্ত অভিযানে দমদম স্টেশনে থাকা ১৭০-এর বেশি স্টল, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে মেট্রো ও রেল স্টেশনে যাওয়ার রাস্তার দু’দিকে থাকা প্রায় ৪০০ দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। প্রতিবাদে সিপিএম রবিবার বিকালে দমদম রোডে মিছিল করে। গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, হকার উচ্ছেদ হলে বুলডোজারের সামনে দাঁড়াব। এর থেকে বড় প্রহসন কী হতে পারে!’
একইভাবে উত্তরপাড়া স্টেশন ও সংলগ্ন চত্বরে উচ্ছেদ রুখতে মাঠে নেমেছিল সিপিএম ও সিপিআই(এম এল) নেতৃত্ব। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, প্রবল বিক্ষোভ, প্রতিরোধের চেষ্টা চললেও উচ্ছেদ রোখা যায়নি। রেললাইনের দু’পাশে এবং কাঁঠালবাগান বাজারে উচ্ছেদ চলে। রাত ৯টা নাগাদ মাখলার দিক থেকে দু’টি বুলডোজার অটো-টোটোস্ট্যান্ড লাগোয়া বস্তিতে ঢুকলে স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়েন। রাত ১১টা নাগাদ বিরাট পুলিশ বাহিনী এনে ফের অভিযান শুরু হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় কাঁঠালবাগান বাজার। সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘বর্বরোচিত হানাদারি চলছে। রাষ্ট্র পেশীশক্তি আর বুলডোজার সংস্কৃতিতে সিলমোহর দিচ্ছে।’