রাজ্যে স্মার্ট মিটার চালু নিয়ে সুর বদল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রীর, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি গ্রাহক সংগঠনের
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর ঘোষণা করেছিলেন, স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক নয়। বলপূর্বক কোথাও স্মার্ট মিটার বসানো হবে না। তিনি এই ঘোষণা করেছিলেন লোকসভায়। এদিকে গত শনিবার কলকাতায় এসে তিনি জানিয়ে গিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে আগামী জুলাই মাস থেকে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। এর জন্য গ্রাহকদের থেকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা করে নেওয়া হবে।
সরকারের এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংগঠন অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাবেকা)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী কে হবেন, সেই ব্যাপারে এখনো কোনো ঘোষণা হয়নি। অথচ এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসে স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত দিনক্ষণ জানিয়ে গেলেন। আমাদের প্রশ্ন, রাজ্য সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই ঘোষণা করে গেলেন? পশ্চিমবঙ্গ কি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল? মহোহরলাল খট্টর জানিয়ে গিয়েছেন, বিদ্যুৎ মাশুলের সংস্কার করা হবে। এর অর্থ, বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছে সরকার, এমনটাই মনে করছেন সুব্রতবাবুরা।
এদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকার প্রতিমাসে গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেবে। কিন্তু সে ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো ঘোষণা করেনি তারা। সুব্রতবাবুর কথায়, শুধু এরাজ্যে নয়, গোটা দেশেই নানা প্রান্তে গ্রাহকদের আন্দোলনের জেরে চাপে পড়ে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখানে আবার সেই উদ্যোগ শুরু হলে এবং প্রিপেড মিটার চালুর তোড়জোড় হলে ফের তীব্র আন্দোলন শুরু হবে।
সুব্রতবাবুর ভাষায়, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার সাধারণ গ্রাহকদের টাকা লুট করার যন্ত্র। সেই লুট তাঁরা করতে দেবেন না। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিরও কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেছে অ্যাবেকা। তাদের কথায়, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকেই কয়লার দাম ৪০ শতাংশ কম এবং কয়লার উপর জিএসটি ৭ শতাংশ কম। যেখানে বিদ্যুৎ মাশুল ৫০ শতাংশ কমানোর কথা ছিল, তা না করে সরকার বারবার দাম বৃদ্ধির দিকে এগিয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদও হয়েছে। এবারও যদি সরকার সেই পথে হাঁটে, তাহলে আন্দোলন হবে সর্বত্র।