নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের রাজনীতিতে ভোটের উত্তাপ অনেকটাই স্তিমিত। কিন্তু যাবতীয় চর্চা এখনও ভোটকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। চায়ের দোকান থেকে বাজার, পার্টি অফিস বা পাড়ার মোড়— সর্বত্র একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে, বারাসতের বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় কি এবার মন্ত্রী হচ্ছেন? এবার বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে এই বিধানসভা। শংকরের জয় এসেছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে। তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্তকে ৩৪ হাজার ৫৫৮ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। ফল ঘোষণার পর থেকেই নাগরিকদের প্রশ্ন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পুরস্কার কি এবার মন্ত্রিত্ব? বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শংকর চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পথচলায় কোনো শর্টকাট নেই। বিজেপি যখন উত্তর ২৪ পরগনায় কার্যত প্রান্তিক শক্তি, তখন থেকেই দলের পতাকা কাঁধে নিয়ে পথে নেমেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা তাপস মিত্র। বারাসতে বিজেপি বললেই সবাই চিনত শংকর-তাপসকে। আজ যে দলীয় কার্যালয়ে ভিড়, ভোটব্যাংকের শক্তি, তার পিছনে বহু বছরের ঘাম, শ্রম আর লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে।
দলের প্রবীণ কর্মীদের কথায়, ‘এক সময় বারাসতে বিজেপি করা মানেই ছিল রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া। কখনও বামেদের সংগঠিত শক্তি, কখনও তৃণমূলের বিস্তৃত প্রভাব। এই দুয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিজেপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই সহজ ছিল না। সেই কঠিন সময়ে তাপস মিত্র, শংকর চট্টোপাধ্যায়দের মতো নেতারা সংগঠনের হাল ধরেন।’ স্থানীয়দের একাংশ বলছে, আজকের সাফল্য রাতারাতি আসেনি। যে বীজ বহু বছর আগে বপন করা হয়েছিল, তারই ফল মিলেছে। আর সেই কারণেই অনেকের মতে, শংকরের জয় আসলে বারাসতে বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি। জল্পনার আরেকটি বড় কারণ, রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বিধায়কের সুসম্পর্ক। বিজেপির অন্দরেও ধারণা রয়েছে, সাংগঠনিক স্তরে শংকরের গ্রহণযোগ্যতা যথেষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকার সুবাদে রাজ্য নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত তিনি। ফলে মন্ত্রিসভায় তাঁর নাম থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বারাসতের মণ্ডল স্তরের এক বিজেপি কর্মীর বক্তব্য, ‘দলের যখন কিছুই ছিল না, তখন যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সঠিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সেই আবেগই এখন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ ভোটারদের একাংশের মধ্যে।’ সব মিলিয়ে বারাসতের রাজনীতির করিডরে ফিসফাস বাড়ছে—শংকর চট্টোপাধ্যায় কি এবার মন্ত্রী হচ্ছেন? উত্তর জানা যাবে আর কয়েকদিন মধ্যেই।