কামারহাটিতে গ্রেপ্তার বাহুবলি গুড্ডু, ভাঙা হল তৃণমূল অফিস, পানিহাটিতে কমিউনিটি হল থেকে উদ্ধার প্রচুর আধার কার্ড
বর্তমান | ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কামারহাটির ‘বস’। দখল করা সরকারি জমিতে গোডাউন ও অফিস। সেগুলি ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়, তোলাবাজি, প্রোমোটারি, বন্দুক নিয়ে দাপাদাপি সহ নানা অভিযোগ রয়েছে আনিসুর রহমান ওরফে গুড্ডুর বিরুদ্ধে। এই দুষ্কৃতী কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠ বলে শোনা যায়। শনিবার রাতে এই গুড্ডুকে গ্রেপ্তার করেছে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ। অন্যদিকে, শনিবার রাতভর কামারহাটি জুড়ে বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের অফিস ও তৃণমূল প্রভাবিত ক্লাব। পানিহাটিতে তৃণমূল কাউন্সিলারের অফিস থেকে বিপুল সংখ্যক আধার কার্ড উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কামারহাটির বি টি রোডের ধারে রয়েছে উদয় ভিলা মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটির বিশাল জমি। এখানে এক সময় মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প চালানো হতো। বহুদিন তা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ওই বিশাল জমি গুড্ডু ও তার দলবল দখল করেছিল। ওই জমিতে বেআইনিভাবে শেড বানিয়ে একটি বহুজাতিক সংস্থাকে গোডাউন হিসাবে ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ। ওই জমিতে বিধায়কের কার্যালয়ও তৈরি করা হয়েছিল। গত শনিবার এ নিয়ে বেলঘরিয়া থানার দ্বারস্থ হয় কামারহাটির বিজেপি নেতৃত্ব। তারপর ওই রাতেই পুলিশ গুড্ডুকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার দুপুরে বারাকপুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পুলিশ উদয় ভিলায় যায়। সেখানে কেয়ারটেকারকে দিয়ে দরজা খুলে চলে তল্লাশি অভিযান। উদ্ধার করা হয় বহু কাগজ। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং বলেন, তোলাবাজির অভিযোগে গুড্ডুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সরকারি জমি দখল করে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি।
তবে শুধু উদয় ভিলার জমি নয়, গুড্ডুর বিরুদ্ধে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দালালরাজ চালানো, অস্থায়ী ঠিকাকর্মী নিয়োগে দাদাগিরি, জমি দখল, মারধর, হুমকির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, কামারহাটি মোড়ে বি টি রোডের ধারে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের অটো ইউনিয়নের অফিস, বেলঘরিয়া স্টেশন সংলগ্ন ২ নম্বর রেলগেটের কাছে রাস্তা দখল করে থাকা তৃণমূল প্রভাবিত একটি ক্লাব সহ আরও কয়েকটি বেআইনি দখলদারি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। এসবের মধ্যেই শনিবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে মিছিল করতে গিয়ে বিধায়ক মদন মিত্র পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
এদিকে, পানিহাটি পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলারের ওয়ার্ড অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে হাজার খানেক আধার কার্ড। ওই ওয়ার্ড অফিসে আচমকা হানা দেন বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিঠু মজুমদার। বিজেপির দাবি, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় তিন হাজার আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অপু ঘোষ দাবি করেছেন, যেখানে আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে, সেটা ওয়ার্ড অফিস নয়। সেটি একটি কমিউনিটি হল। ওই হলঘর অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন মিঠু মজুমদার। উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড আমরা ঘোলা থানার হাতে তুলে দিয়েছি। যদিও মিঠু মজুমদার বলেন, ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর কমিউনিটি হল ভাঙচুর করে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। ২৪ মে বিজেপির লোকজন আমাকে ওই অফিসে ডেকে পাঠিয়ে ড্রয়ার থেকে কিছু আধার কার্ড বের করে। কীভাবে ওখানে আধার কার্ড এল, তা আমি জানি না। নিজস্ব চিত্র