: কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা শহরে সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম বিতরণের কাজ। মাথাভাঙা মিউনিসিপ্যালিটি অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় মহিলাদের হাতে এই নতুন জনমুখী প্রকল্পের আবেদনপত্র তুলে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রোজ সকাল থেকেই মিউনিসিপ্যালিটি অফিস চত্বরে উপভোক্তা ও সাধারণ মহিলাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে উৎসাহের সঙ্গে ফর্ম সংগ্রহ করেন মায়েরা-মেয়েরা।
প্রশাসন ও মিউনিসিপ্যালিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফর্ম বিতরণের প্রথম দিনেই প্রায় ৩০০টি আবেদনপত্র মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও অনেক ফর্ম বিলি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম দু’দিনেই প্রায় ১৫০০ ফর্ম বিলি হয়। শুধুমাত্র ফর্ম বিলি করাই নয়, সাধারণ মানুষ যাতে কোনও রকম বিভ্রান্তির শিকার না হন এবং দালালের খপ্পরে না পড়েন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আবেদনপত্রটি কীভাবে নির্ভুল ও সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে, তার জন্য মিউনিসিপ্যালিটি কর্মীদের পক্ষ থেকে মহিলাদের বিশেষ সহযোগিতা ও গাইড করা হয়। সরকারি কর্মীদের এই তৎপরতায় খুশি আবেদনকারীরা।
আগে রাজ্যে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা মাসে সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতেন। তবে বর্তমান সরকারের নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রতি মাসে সরাসরি ৩০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রতি মাসে নিশ্চিত ৩,০০০ টাকা পাওয়ার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে মাথাভাঙার সাধারণ পরিবার ও মা-বোনেদের মধ্যে এক ব্যাপক খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। ফর্ম সংগ্রহ করতে আসা মহিলারা জানান, এই টাকা তাদের সংসার পরিচালনায় এবং নিজেদের স্বনির্ভর করতে অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনগুলিতেও যাতে সুশৃঙ্খলভাবে এই ফর্ম বিলির কাজ চালানো যায়, তার জন্য সব রকম প্রস্তুতি রাখছে মাথাভাঙা পৌর প্রশাসন।