• বিমানবন্দরের কাছে থাকা বৃষ্টির বাড়িতে ‘আলো’ এল ৫০ বছর পরে, তরুণী বললেন, ‘দাদা কথা রেখেছেন’
    এই সময় | ০১ জুন ২০২৬
  • বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের সম্পর্ক যতটা নিবিড়, আলোর ঠিক ততটা নয়। ঘন মেঘের জেরে তৈরি হওয়া ঘুটঘুটে অন্ধকার বৃষ্টিকে প্রবল থেকে প্রবলতর করে তোলে। এই গল্পে অন্ধকার যদিও বৃষ্টির জীবনে আলাদা কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ এটা ‘গল্প হলেও সত্যি’। আর সত্যি বলেই হয়তো এ গল্পে অন্ধকার যত গাঢ় হয়েছে, জেদও ততই বেড়ে গিয়েছে বৃষ্টির।

    জন্মের পর থেকে একচিলতে ঘরে শুধু অন্ধকার দেখে এসেছিল মেয়েটি। সন্ধ্যা নামলে পাড়া-প্রতিবেশীর ঘরে দিব্যি আলো জ্বলেছে, পাখা চলেছে। কিন্তু তাঁর ঘরে অন্ধকার ঘুচত মোমবাতি বা কেরোসিনের বাতির আলোয়। আর গরমে সম্বল শুধু হাতপাখা। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মা-ঠাকুমা একাধিক বার গিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের কাছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। অবশেষে রাজ্যে পালাবদলে সেই মেয়েটির ঘরে আলো এল! উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক ‘দাদা’ সৌরভ শিকদারের উদ্যোগে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছনোর পরে রাজ্যের বিগত ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সরকারের উদ্দেশে শান্ত স্বরে তরুণীর অনুযোগমিশ্রিত বার্তা, ‘গরিব মানুষকে সাহায্য করাই উচিত। তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’

    মেয়েটির নাম বৃষ্টি মণ্ডল। তিনি উত্তর দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকার বাসিন্দা। বৃষ্টি জানান, গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করলেও, বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি তাঁর পরিবার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার সন্ধ্যা মণ্ডলের কাছেও তাঁরা গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিষয়টিতে গুরুত্বই দেননি বলে অভিযোগ। কেরোসিনের বাতিতে এত বছর পড়াশোনা করেছেন বৃষ্টি। পড়তেন বিরাটি মহাজাতি গার্লস স্কুলে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে এখন তিনি একটি চাকরি করেন। এই সময় অনলাইনকে তরুণী বলেন, ‘আমাদের কাউন্সিলার তৃণমূলের সন্ধ্যা মণ্ডলের কাছে বহু বার গিয়েছি। কিন্তু উনি কোনও রকম সাহায্য করেননি। এটা আমরা আশা করিনি যে, উনি আমাদের এ ভাবে ফিরিয়ে দেবেন। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সাহায্য করা উচিত ছিল।’

    উত্তর দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকার বাসিন্দা আরতি মণ্ডলের নাতনি বৃষ্টি। গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালানো আরতির শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী… এই অন্ধকারেই একে একে চলে গিয়েছেন। একমাত্র নাতনি বৃষ্টি বড় হয়েছে কেরোসিনের বাতিতে পড়াশোনা করে।

    এই সময় অনলাইনকে বৃষ্টি জানান, আশপাশের আত্মীয়দের আপত্তির কারণেই এত বছর ধরে তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। অভিযোগ, আত্মীয়েরা কখনও সাহায্য তো করেনইনি, উল্টে বাধা দিয়ে গিয়েছে। সত্তরোর্ধ্ব আরতি মণ্ডল জানান, নির্বাচনী প্রচারে এলাকায় এসে বিজেপি প্রার্থী সৌরভ (বৃষ্টি যাঁকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করেন) তাঁর দুঃখের কাহিনি শুনেছিলেন। তখনই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে যাবে। বিধায়ক কথা রেখেছেন। গত শনিবার বিজেপি বিধায়ককে সামনে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি আরতির পরিবার। বিজেপি বিধায়ককে বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা আরতি। বৃষ্টি বলেন, ‘দাদা (সৌরভ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উনি কথা রেখেছেন। এর জন্য দাদাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি খুশি।’

    উত্তর দমদমের বিধায়ক সৌরভ বলেন, ‘বিমানবন্দরের এত কাছে একটি পরিবার ৫০ বছর বিদ্যুৎহীন ছিল, এটা যে কোনও সরকারের জন্য লজ্জার। মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতেই তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি সেই কাজটাই করেছি।’

  • Link to this news (এই সময়)