সই-বিতর্ক নিয়ে বড় তথ্য সামনে আনলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তৃণমূলের দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় FIR হয়। সোমবার নবান্ন থেকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন বলে জানান শুভেন্দু।
নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০ মে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক একটা রেজ়োলিউশনের কপি পাঠান, ৭০ জন MLA-র সই করা। রেজ়োলিউশনের কপিতে ব্লক লেটারে ১০ জনের নাম লেখা। ২৭ মে দুই MLA ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারকে অভিযোগ জানান। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের নির্দেশে প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় FIR করেন। হোম সেক্রেটারির নির্দেশে আমার অনুমোদনে সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়া হয়।’
ইতিমধ্যেই সিআইডি ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা, হাওড়া মধ্য বিধানসভার অরূপ রায়, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি, চৌরঙ্গির নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, রায়দিঘির তাপস মণ্ডল, মহেশতলার শুভাশিস দাস, কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন মণ্ডল, খড়্গপুরের দীনেন রায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, লালগোলার আব্দুল আজিজ, বসিরহাট উত্তরের তসিপুর রহমান, হাড়োয়ার আব্দুল মতিন। রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায় এলাকায় ছিলেন না। পরে কথাবার্তা বলবে সিআইডি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায়, শুভাশিস দাস সিআইডিকে জানিয়ে দিয়েছেন, সই তাঁদের নয়। বাহারুল সেদিন বাড়িতে ছিলেন, কলকাতায় আসেননি বলেও জানান সিআইডিকে। শুভেন্দু বলেন, ‘এরা প্রতিষ্ঠিত চোর। নিজের দলের বিধায়কদের সই জাল করে! তিন জন বিধায়ক তা স্বীকারও করেন সিআইডির সামনে। মালের দায়িত্ব আরোহীর, তাঁরা কেন-ই বা ফাঁসবেন?’
ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় যা যা আইন আছে, তা মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও এ দিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও অসুবিধা থাকলে, অসুস্থ থাকলে তাঁকে সময় দেবেন কি না, তদন্তকারী অফিসারই তা ঠিক করবেন, সে কথাও বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এই সই বিতর্কে আজই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হয়। যদিও ‘শারীরিক অসুস্থতা’র কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি। অন্যদিকে এ দিন দুপুরেই তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে। দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার বলে জানানো হয়েছে।