• ‘উঠে যাওয়া পার্টির কাউকে এত গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই’, পরোক্ষে অভিষেক কাণ্ড নিয়েই বার্তা শুভেন্দুর?
    এই সময় | ০১ জুন ২০২৬
  • ফলতায় পুনর্নির্বাচনে যে দল চতুর্থ হয়েছে, যে দল কার্যত উঠে গিয়েছে, সেই দলের কাউকে এত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত, সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা নিয়েই পরোক্ষে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শুভেন্দু নিজের বক্তব্যে কোথাও সোনারপুরের ঘটনার উল্লেখ করেননি। তৃণমূল সাংসদ অভিষেকেরও নাম নেননি।

    গত শনিবার সোনারপুরে দলের মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছে তৃণমূল এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, 'সোনারপুরের ঘটনায় বিজেপির কেউ জড়িত নন। তা তৃণমূলের ভাগ বাটোয়ারার লড়াই।' প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের কয়েক জন তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদেরই অনুগামী বলেই তদন্তে উঠে এসেছে। আবার তৃণমূলের তরফেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।

    সোনারপুরের ঘটনায় বিজেপির অন্য নেতারা মুখ খুললেও, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এখনও ওই ঘটনা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। কিন্তু রাজ্যের জায়গায় জায়গায় তৃণমূল নেতাদের ঘিরে যে বিক্ষোভের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনেক জায়গায় দেখছি, পার্টি অফিস থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধার হচ্ছে। তা নিয়ে অনেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আপনাদের এ সব করার দরকার নেই। পুলিশ, বিডিও এঁদের ডাকুন। প্রশাসন যা করার করবে। আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। একটা উঠে যাওয়া পার্টি, ফলতায় চতুর্থ হওয়া পার্টির কাউকে এত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই তো। বিক্ষোভ, জনরোষ দেখিয়ে এদের এত প্রচার দেওয়ার দরকার নেই।’

    প্রসঙ্গত, শুধু অভিষেকই নন, রবিবার ‘জনরোষের’ মুখে পড়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলীয় কর্মীদের অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে চণ্ডীতলা থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে। তাতে মাথায় আঘাত লেগে তৃণমূল সাংসদকে পড়ে যেতে দেখা যায়। এই ঘটনাতেও বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছিলেন কল্যাণ। বিজেপি সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)