আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বাম জামানা শেষ হওয়ার পর ফের একজন পূর্ণ মন্ত্রী পেল মুর্শিদাবাদ জেলা। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকালে মুর্শিদাবাদ থেকে একাধিক প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী থাকলেও, মমতা ব্যানার্জির সরকার এই জেলা থেকে কাউকে পূর্ণমন্ত্রী করেনি।
তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই মুর্শিদাবাদ থেকে বিজেপি একজনকে পূর্ণমন্ত্রী এবং একজনকে প্রতিমন্ত্রী করল। পূর্ণমন্ত্রী হলেন মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এবং প্রতিমন্ত্রী হলেন কান্দির বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ। গার্গীদেবীর মা ছায়া ঘোষ বাম জমানায় রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সাধারণ সদস্য থেকে এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর। ১৯৯৪-৯৫ সাল থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাঁর। দীর্ঘ সাংগঠনিক লড়াইয়ের পর সোমবার মন্ত্রিত্বের শপথ নিলেন তিনি।
গৌরীশঙ্কর একসময় বিজেপির ব্লক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ২০১৬-২০২১ পর্যন্ত বিজেপির অখণ্ড মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদে ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার লড়েন ২০১৬ সালে। সেবার পরাজিত হলেও হাল ছাড়েননি। ২০২১ ও ২০২৬, পরপর দু'বার মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। দলের প্রতি নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার হিসেবেই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন তিনি।
মন্ত্রীর বাড়ি মুর্শিদাবাদের হাড়িভাঙ্গা প্রসাদপুর গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই স্নাতকোত্তর করেন। ছাত্রজীবন থেকেই আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। একাধিক কৃষি আন্দোলনের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি। তৃণমূল স্তর থেকে কাজ শুরু করে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পারদর্শিতায় আজ রাজ্যের মন্ত্রী হলেন তিনি।
বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, “সোমবার কলকাতায় মন্ত্রিত্বের শপথ নেওয়ার পর মুর্শিদাবাদে ফিরবেন গৌরীশঙ্করবাবু। তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি মণ্ডল কার্যালয়ে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দলীয় কর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন।”
নীচুতলার সংগঠন থেকে উঠে আসা গৌরীশঙ্কর ঘোষের মন্ত্রিত্ব পাওয়া মুর্শিদাবাদ বিজেপির কাছে বড় প্রাপ্তি। সংঘ পরিবারের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, বামফ্রন্ট জমানায় জেলার শেষ পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন ডোমকলের প্রাক্তন বিধায়ক আনিসুর রহমান। ৩৪ বছরের বাম রাজত্বে তিনি প্রায় কুড়ি বছর পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূলের জামানায় সুব্রত সাহা, হুমায়ুন কবীর এবং আখরুজ্জামান মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।