আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি, বারবার অভিযোগ করেছেন, মহারাষ্ট্রে বিজেপি যেভাবে দল ভাঙিয়েছে, সেই চেষ্টা হবে বাংলাতেও। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বাংলার তৃণমূলের উপর মহারাষ্ট্রের এনসিপি-শিবসেনার ছায়া দেখছেন অনেকেই। কিন্তু সেখানে হাত বিজেপির নয়, বরং কিছুটা উলটো। রবিবার মমতার ডাকা বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর, রাজনীতির অলিন্দে জোর জল্পনা, এবার কি তাহলে তৃণমূলেও 'আমরা', 'ওরা' স্পষ্ট হয়ে গেল আরও?
জল্পনার কারণ খুব স্পষ্ট। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলছে তৃণমূলের অন্দরে। অভিষেক ব্যানার্জির নামের চিঠির ভিত্তিতে জানানো হয়েছিল, তৃণমূলের বিধায়করা সর্বসম্মতিক্রমে ঠিক করেছেন, বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই ঠিক করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা হিসেবে। সমস্যার সূত্রপাত সেখানেই। বিধায়কদের নাম সই করা যে রেজিলিউশন জমা দিয়েছিল তৃণমূল, জল্পনা, তাতে অনেক বিধায়কের নাম নাকি সই জাল! ইতিমধ্যে 'সই কার?' জানতে একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছে সিআইডি। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতেও সিআইডি গিয়েছিল। সূত্রের খবর, জাল-সই কাণ্ডে সিট গঠন করেছে রাজ্য।
এই পরিস্থিতিতে জোর কানাঘুষো, তৃণমূলের টালমাটাল পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে আমরা-ওরা বিভাজন। এদিক-ওদিক কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের ৮০ জয়ী বিধায়কের মধ্যে একটা বড় অংশ নাকি মানছেন না, বিরোধী দলনেতারর নাম বাছাই বিষয়টিকে। রবিবার আরও স্পষ্ট হয়ে যায় বিষয়টি, যখন মমতার ডাকা বৈঠকে ৮০ বিধায়কের মধ্যে, উপস্থিত হয়েছিলেন মাত্র ২০জন। অন্যদিকে পরাজিত বহু নেতার মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে, কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোজা অভিষেকের বিরুদ্ধে, কেউ আঙুল তুলেছেন ক্যামাক স্ট্রিটের দিকে। কেউ বলছেন, অভিষেক যেদিন দাদা থেকে বস হলেন, সেদিনই নাকি তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পড়ে গিয়েছিল। বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েকবছর ধরে 'কালীঘাট বনাম ক্যামাকস্ট্রিট', 'নবীন বনাম প্রবীণ' ফাটল শোনা গিয়েছে বহুবার। এই পরিস্থিতিতে, 'আমরা আসল তৃণমূল' স্লোগান তুলে বিধায়কদের বড় অংশ নাকি মমতা-অভিষেকের বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই আবার বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের সময়কাল এবং মানস ভুঁইয়ার বিধানসভার পদ-প্রাপ্তির বিষয়টিও তুলে ধরছেন।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন 'আসল তৃণমূল' নেতারা? সোজা ঘাসফুল থেকে পদ্মফুলে ঝাঁপ দিতে পারেন, এই ধরনে জল্পনা ৫ মে থেকে থাকলেও, বিজেপির দরজা এখন বন্ধ বলে, এখনই এই বদল সম্ভব হচ্ছে না। আবার তার মাঝেই কে ভাল তৃণমূল কে নয়, তা নিয়েও চলছে অঙ্ক কষা। সূত্রের খবর, এখানেই মিলে যেতে পারে মমতার 'মহারাষ্ট্র' আতঙ্ক। সরাসরি বিজেপিতে না গিয়ে, শিবসেনার একনাথ শিন্ডে কিংবা এনসিপির অজিত পাওয়ারের মতো বিক্ষুব্ধ নেতারা পৃথক হয়ে, দলের নাম একজই রেখে, বিজেপির হাত ধরতে পারেন।
একনাথ শিন্ডের আচমকা উদ্ধব ঠাকরের হাত ছেড়ে, 'আসল শিবসেনা' প্রমাণ কিংবা কাকার হাত ছেড়ে অজিতের পৃথক এনসিপি গোষ্ঠী তৈরি করার মতোই তাহলে কি বাংলাতেও কালীঘাট কিংবা ক্যামাক স্ট্রিটের গণ্ডি ছাড়িয়ে তৈরি হচ্ছে 'আসল তৃণমূল'? যদি হয়ও, তাহলে কে হবেন একনাথ কিংবা অজিত, জল্পনা তা নিয়েই।