TMC বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিষেককে CID-র তলব, জানালেন CM শুভেন্দু
আজ তক | ০১ জুন ২০২৬
বিধায়কদের সইকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে CID। সেই মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। শুধু তাই নয়, একাধিক বিধায়ককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানালেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিধায়কের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই তদন্ত করছে CID। এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন তা নিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। তা গৃহীত হয়নি। তার কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। তবে বিধায়কদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে বসেন, তাঁদের যে সই দেখানো হয়েছিল তা আসলে ৬ মে তারিখের।
এই সামগ্রীক বিষয়টির তদন্ত শুরু করে CID। তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, '২০ মে আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রেজুলেশনের কপি পাঠান ৭০ জনের সই করা। ২৭ মে তারিখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন, যে তাঁদের সই নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। তারপরই CID-র হাতে তদন্তভার দেওয়া হয়।'
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তদন্তে নেমে CID ১৩ জন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে। ক্যানিংয়ের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা, তাপস মাইতি, নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, অরূপ রায়, তাপস মণ্ডল, শুভাশিস দাস, তোরাপ হোসেন মণ্ডল,
দীনেন রায়, কুণাল ঘোষ, আব্দুত আজিজ প্রমুখদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের মধ্যে সমর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি CID। তবে অরূপ রায়,শুভাশিস দাস ও বাহারুল ইসলাম তদন্তকারীদের জানিয়ে দেন সই তাঁদের নয়। বাহারুল জানান, তিনি ভাঙড়ে ছিলেন। সই করার প্রশ্নই ওঠে না। শুভেন্দুর সংযোজন, 'নিজের বিধায়কদের সই জাল করছে। এরা এমন দল। প্রতিষ্ঠিত চোর। তাঁরা কেন ফাঁসবেন না। সিআইডি এরপরই আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নোটিশ দেন। বাকিটা সিআইডি পুলিশ বলতে পারবে।'
শুভেন্দু অধিকারীর আরও জানান, অনেকে দাবি করছেন বিজেপি পরিচালিত সরকার নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। কিন্তু এটা সত্যি নয়। আইন আইনের পথে চলবে। সেই ব্যাপারে প্রশাসনই শেষ কথা বলবে। তাঁর কথায়, 'ওই দলের বিরুদ্ধে আর কী করব। পার্টিটা উঠে গিয়েছে। ভোটের আগে প্রার্থী নিজের নাম তুলে নিচ্ছে। এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে। গতকালও দেখলাম তৃণমূলের বৈঠক ছিল। অথচ ১৫-১৭ জন উপস্থিত ছিলেন মাত্র। সেই দল সম্পর্কে আর কী বলব?'