ঋতব্রত, সন্দীপনকে বহিষ্কার করল TMC, MLA সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮
আজ তক | ০১ জুন ২০২৬
দলবিরোধী কাজ করার অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি জানিয়ে ইতিমধ্যেই স্পিকার রথীন্দ্র বোসকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
TMC-র এই সিদ্ধান্তের ফলে বিধায়ক সংখ্যা আরও কমে গেল তৃণমূলের। ৮০ থেকে কমে গিয়ে ঘাসফুল শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা হল ৭৮-এ। কারণ ঋতব্রত ও সন্দীপন দুজনেই জয়ী বিধায়ক ছিলেন। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইমেল এবং হোয়াট্সঅ্যাপে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কী কারণে দুই জয়ী বিধায়ককে বহিষ্কারের রাস্তায় হাঁটল তৃণমূল?
TMC-র তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র কিছুক্ষণ আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের সই জল হয়েছে। তার ভিত্তিতে সই বিতর্ক-সহ তদন্ত শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হয় FIR. তার কিছুক্ষণের মধ্যে সামনে আসে বহিষ্কারের ঘটনা।
এই দুই বিধায়কের কী হবে?
তৃণমূলের তরফে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও ঋতব্রত এবং সন্দীপন, দু'জনেই বিধানসভার সদস্যই থাকছেন। কিন্তু বিধানসভায় তাঁরা আর তৃণমূলের বিধায়ক হিসেবে থাকছেন না। ফলে TMC-র কোনও নির্দেশ মানতেও তাঁরা আর বাধ্য থাকছেন না।
এদিন, দুই নেতাকে বহিষ্কারের পরেই মুখ খোলেন কুণাল ঘোষও। সংবাদমাধ্যকে তিনি বলেন, "এটা কত বড় বিশ্বাসঘাতকতা! যদি কোনও ভুল কিছু থাকত, তাহলে তাঁদের উচিত ছিল নেত্রীকে জানানো। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গেও এরা মিটিংয়ে বসেছিলেন, তাঁকেও জানাতে পারত। কিন্তু তা না করে এরা স্পিকারকে চিঠি দিয়ে দিল। কোনও সমস্যা থাকলে দলের কাছে সুরাহা চাইতে পারত। কিন্তু তা না করে প্রথমবার MLA হয়েই ২০ দিনের মধ্যে অন্য দলকে চিঠি দিল।"
প্রসঙ্গত, এর আগে দলের কাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতায় নির্বাচনের আগে আচমকা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নাম তুলে নেওয়ার কথা বলাতে, দল কেন তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন ঋতব্রত। এছাড়াও দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি হতেও দেখা যায়।