ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ইমেল এবং হোয়াটসঅ্যাপ মারফত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার সই জালের ঘটনা নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন স্পিকারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডিকে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুভেন্দু অধিকারীর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবে এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মে জটিলতা তৈরি হয়। ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবে তা ঠিক করেন তৃণমূলনেত্রী। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতম করার কথা জানায় তৃণমূল।
দলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভা। তবে তা গৃহীত হয়নি। তার কারণ পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলরে ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে খবর। ১৯ মে কালীঘাটে ফের বৈঠক হয়। সেখানে বিধায়কদের পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয়। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে করানো হয়েছিল। এখান থেকেই জটিলতা তৈরি হয় বলে খবর।
সইয়ের ঘটনায় সিআইডি চারজন বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম। বাহারুলের সই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই দিন মমতার বাড়ির বৈঠকে বাহারুল হাজির ছিলেন না। বাহারুল জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে, তাই এ বিষয়ে কিছু বলবেন না। বিষয়টি দলকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।