আজ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএ বৈঠক, আশায় বুক বাঁধছেন সরকারি কর্মীরা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ জুন ২০২৬
আজ বকেয়া ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা সরকারি কর্মচারীদের। সরকারি কর্মীদের চারটি সংগঠনের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী আলোচনা বসবেন বলে খবর। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, ইউনিটি ফোরাম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
অনেকদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্ট যায় রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ৬ সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়াও হয়। তারপরও রাজ্য সরকার সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেয়নি।
শীর্ষ আদালাতের কাছে অতিরিক্ত ৬ মাস সয়ম চাওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছিল শুনানি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সাফ জানান, ডিএ আইনি অধিকার। বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মিটিয়ে দিতে বলা হয়। মে মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
প্রথম কিস্তি মার্চের ৩১ তারিখের মধ্যে দিতে বলা হয়। বাকি যা থাকবে তার কতটা অংশ কতদিনের মধ্যে দিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি নেবে বলে জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ডিএ মেলেনি সরকারি কর্মীদের।
মমতার সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানান, ডিএ দেওয়ার জন্য ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি কর্মীর নথি খতিয়ে দেখতে হবে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত কর্মীদের তথ্য ডিজিটাল নয়। সার্ভিস বুক আকারে হাতে লেখা নথি রয়েছে। ফলে সেগুলি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগবে। তাছাড়া এসআইআরে জন্য রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক আধিকারিকের সংখ্যাও কম আছে। এই কারণ দেখিয়ে ডিএ বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি আদালতে জানানো হয়।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একাংশের বকেয়া মেটানো হলেও ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পাননি সরকারি কর্মচারীরা। শুক্রবার থেকে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু করেছে শুভেন্দুর সরকার। কর্মরতরা এখনও ডিএ পাচ্ছেন না। এ নিয়েই সোমবার বৈঠক হতে পারে বলে খবর।