গুজরাটে নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস, একাধিক রাজ্যে ক্রস ভোটিংয়ের আশঙ্কা! রাজ্যসভায় এনডিএ কি দেড়শো পার?
প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
রাজ্যসভার সমীকরণে বড়সড় বদল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটে কার্যত নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে কংগ্রেস। ক্রস ভোটিং হতে পারে আরও একাধিক রাজ্য। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের অন্দরে আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
রাজ্যসভায় আট রাজ্যের ২৬ আসনের জন্য ভোট ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ২৬ আসনের মধ্যে ২৪ আসনের বর্তমান সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বাকি দুই আসনে ভোট হচ্ছে সাংসদরা মেয়াদের আগেই ইস্তফা দেওয়ায়। আগামী ১৮ জুন একসঙ্গে ওই ২৬ আসনে নির্বাচন হবে। সোমবারই ওই নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে। আট রাজ্যের মধ্যে অন্ধ্রে ৪, গুজরাটে ৪, ঝাড়খণ্ডে ২, মধ্যপ্রদেশে ৪, মণিপুরে ১, মেঘালয়ে ১, রাজস্থানে ৪, অরুণাচলে ১, কর্নাটকে ৪, মিজোরামে ১ আসনে ভোট হবে। এর বাইরে মহারাষ্ট্রের এক আসন ও তামিলনাড়ুর এক আসনে রাজ্যসভার উপনির্বাচন হতে চলেছে।
এই আসনগুলির মধ্যে আপাতত বিজেপির দখলে রয়েছে ১২ আসন। এনডিএর দখলে সার্বিকভাবে আরও কয়েকটি আসন রয়েছে। কংগ্রেসের হাতে রয়েছে ৪ আসন। এবারের ভোটের পর এনডিএ ১৭-১৮ আসন জিততে পারে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় এনডিএর দখলে রয়েছে ১৪৮ আসন। সেটাকে ১৫০ পার করার লক্ষ্য নিয়ে নামছে গেরুয়া শিবির। সেখানেই মূল আশঙ্কা কংগ্রেসের। একাধিক রাজ্যে ক্রস ভোটিং হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাত শিবির। তাছাড়াও কংগ্রেসের দুঃসংবাদ রয়েছে।
প্রথমত গুজরাট থেকে রাজ্যসভায় নিশ্চিহ্ন হচ্ছে কংগ্রেস। সম্ভবত এই প্রথমবার গুজরাট থেকে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের কোনও সাংসদ থাকবেন না। আগামী ২১ জুন শেষ হচ্ছে শক্তিসিন গোহিলের মেয়াদ। তাঁকে নতুন করে রাজ্যসভায় পাঠানোর মতো বিধায়ক হাত শিবিরের নেই। দ্বিতীয়ত, ক্রস ভোটিং। মধ্যপ্রদেশে ৩ আসনের মধ্যে দুই আসনে বিজেপির জয় নিশ্চিত। ওই রাজ্যে কংগ্রেসের হাতে একটি আসন জেতানোর মতো বিধায়ক রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মাত্র ছয় বিধায়ক ক্রস ভোট করলেই সেই অঙ্ক বদলে যেতে পারে। রাজস্থানেও ৩ আসনের মধ্যে এক আসন জেতার কথা হাত শিবিরের। সেখানেও প্রার্থী নিয়ে প্রশ্ন দলের অন্দরে। রাজস্থানে শচীন পাইলটের জন্য রাস্তা পরিষ্কার করতে অশোক গেহলটকে রাজ্যসভায় পাঠাতে চায় কংগ্রেস হাই কম্যান্ড। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাতে নিমরাজি। আবার রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় যাওয়ার দাবিদার পব খেড়াও। এদিকে ঝাড়খণ্ডে দুই আসনে ভোট। সে রাজ্যে কংগ্রেস-জেএমএম জোট যদি যৌথভাবে দুই আসনে প্রার্থী দেয়, তাহলে দুই আসনই জেতার কথা তাদের। কিন্তু জেএমএম আদৌ কংগ্রেসকে আসন ছাড়বে কিনা সংশয় রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যসভা ভোট নিয়ে বেশ চাপে হাত শিবির।