• স্কুলে যাওয়ার পথেই সব শেষ! নদিয়ায় ম্যাটাডোরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৪ বছরের খুদের
    প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
  • গরমের ছুটি কাটিয়ে আজ প্রথম স্কুল খুলল। আর স্কুলে যাওয়ার পথেই ঘনিয়ে এল চরম বিপদ। পিছন দিক থেকে আসা একটি ম্যাটাডোরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৪ বছরের খুদে পড়ুয়ার। বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত তার বাবা ও সহপাঠী। নদিয়ার (Nadia) কোতোয়ালিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

    সোমবার সকালে নদিয়ার কোতোয়ালি থানার মুক্তিনগর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম রাজশ্রী বিশ্বাস। গুরুতর আহত হয়েছে পৃত্রিজা পাল। দু’জনের বয়স ৪ বছর। সকলের বাড়ি কোতোয়ালি থানার পালপাড়া এলাকায়। দুই শিশুই স্থানীয় শহীদ ক্ষুদিরাম স্কুলের ছাত্রী।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার সকালে দেবাশিষ পাল নিজের মেয়ে ও তার সহপাঠী রাজশ্রী বিশ্বাসকে নিয়ে মোটরবাইক চালিয়ে স্কুলে দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় মুক্তিনগর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পণ্যবাহী গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে বাইকে। ধাক্কার জেরে বাইকে থাকা দুই খুদে ছাত্রী ছিটকে পড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাতক গাড়িটিও রাস্তার ধারের জঙ্গলে উল্টে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রাই। চিকিৎসকরা রাজশ্রী বিশ্বাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আহত পৃত্রিজা পালকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার নীলরতন হাসপাতালে। আহত পড়ুয়ার বাবা দেবাশিষ পালও শক্তি নগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মুক্তিনগর এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে উপযুক্ত সার্ভিস রোড নির্মাণ, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় বেপরোয়া গতির যানবাহনের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একরত্তি ছাত্রীর অকালমৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)