অভিষেককে হেনস্তায় ধৃত ৫ জনের জামিন, লোকসভা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পথে সাংসদ!
প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যেতে চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো ছোড়া হয়েছিল। কলার ধরে টান, রীতিমতো মার খেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই রাতভর তল্লাশিতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সোনারপুর থানার পুলিশ। হামলার ভিডিও ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই ওই ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে ১ দিনের জেল হেফাজতের পর আজ জামিন পেলেন ধৃতরা। বারুইপুর মহকুমা আদালত জামিন দেয় ধৃতদের। তৃণমূল সূত্রে খবর, শনিবার সোনারপুরে হেনস্তার ঘটনায় ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পাশে পেতেই এবার লোকসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন অভিষেক। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরতে পারেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, হামলার ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন অভিষেক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত, তপন মাইতি-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা সকলেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। রবিবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে পুলিশ ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছিল। যদিও বিচারক অভিযুক্তদের একদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ধৃত আকাশ গায়েনকে প্রথম হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, তিনি মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ফলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিশেষভাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
যদিও রবিবার সকাল পর্যন্ত অভিষেক ব্যানার্জি বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবুও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছিল, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েক জন একসময় সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।