অন্য নারীতে মন! কন্যাসন্তানের জন্মের পর নরেন্দ্রপুরে স্ত্রীকে ওষুধ খাইয়ে ‘খুনের চেষ্টা’ চিকিৎসকের
প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
পেশায় চিকিৎসক। অথচ কন্যাসন্তানে আপত্তি। পরকীয়ায় জড়িয়ে স্ত্রীকে অত্যাচারের অভিযোগ। ওষুধ খাইয়ে খুনের চেষ্টা করা হয় বলেই দাবি নির্যাতিতা স্ত্রীর। নরেন্দ্রপুরের ঘটনায় ধৃত চিকিৎসক। তাঁকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধৃতের নাম কৌশিক মুখোপাধ্যায়। তিনি এসএসকেএম গ্যাসট্রো বিভাগের চিকিৎসক। তাঁর স্ত্রী সহেলি সরকারের দাবি, “দু’জনের আলাপের সময় পড়াশোনা করতেন কৌশিক। সেখানে গ্যাসট্রো বিভাগের চিকিৎসক। বিয়ের পর সব ঠিকঠাকই ছিল। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে বারবার গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতেন। ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মতো অপরাধও করেন। গর্ভস্থ সন্তান কন্য়া শুনে বেজায় চটেন। মারধর করা হত। চিকিৎসক হওয়ায় ওষুধের সাহায্যে খুনের চেষ্টা করা হয়। মনোরোগের ওষুধ খাইয়ে মানসিক স্থিতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়।” চিকিৎসকের স্ত্রীর আরও দাবি, সন্তান জন্মের পর থেকে অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যে একাধিকবার ওই চিকিৎসক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান বলেও অভিযোগ।
স্ত্রীর দাবি, শিবাঙ্গী সেনগুপ্ত নামে এসএসকেএমেরই এক চিকিৎসকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। নির্যাতিতার কথায়, “আমাকে পাগল প্রমাণ করে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে চেয়েছিল ও। আমার বাবার টাকাপয়সার লোভে সম্পর্ক তৈরি করে। এখন নিজে চিকিৎসক হওয়ার পর আর আমাকে চাইছে না।” স্ত্রীকে অত্যাচারের পাশাপাশি সাড়ে চার বছরের কন্যাসন্তানেরও চিকিৎসক কোনও খোঁজ নেন না বলেই অভিযোগ চিকিৎসকের স্ত্রী সহেলির। নরেন্দ্রপুর থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা স্ত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয় ওই চিকিৎসককে। চারদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।