অভিষেকের উপর হামলাকারী ১১ জনকে চিহ্নিত করল পুলিশ, রয়েছে বিজেপি যোগও!
প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলাকারী ১১ জনকে চিহ্নিত করল পুলিশ। তৃণমূলের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বেশিরভাগের সঙ্গে বিজেপি যোগ রয়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ থেকে পুলিশও সেই সূত্র খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি। শনিবার সোনারপুরে অভিষেকের উপর ব্যাপক জনরোষের ঘটনার পর অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন যে এটা তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সোমবার তৃণমূলের অভিযোগপত্রে স্পষ্ট করে উল্লেখ, অভিযুক্তরা নানা সময়ে নানা দলের ঘনিষ্ঠই ছিল। তবে এই মুহূর্তে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, তারা গেরুয়া শিবিরের সদস্য। সকলের কিছু না কিছু পদ রয়েছে শাসকদলে। এছাড়া ঘটনার দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা টের পেয়েও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার ও সোনারপুর থানার আইসি-কেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, শনিবার সোনারপুরে যারা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ করে ডিম, জুতো, ইট, পাটকেল ছোড়ে, কলার টেনে ধরে মারধর করেছিল, তারা জেলা বিজেপির কোনও না কোনও পদে রয়েছে। যাদের নামে তৃণমূল অভিযোগ জমা দিয়েছে, তারা হল –
সুস্মিতা দত্ত, জেলা বিজেপি সদস্য
তিয়াসা বিশ্বাস, মণ্ডল সভানেত্রী, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড
বাপি মাঝি, বিজেপি সদস্য, ৭ নম্বর ওয়ার্ড
অভিজিৎ বিশ্বাস, জেলা কো-অর্ডিনেটর
কৃষ্ণেন্দু সরকার, বিজেপি সদস্য, ৭ নম্বর ওয়ার্ড
অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি জেলা কমিটির সদস্য
সুমন দত্ত, সুদীপ হালদার
আকাশ গায়েন
নীলাঞ্জন সরকার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য
তৃণমূলের অভিযোগ, এদের মধ্যে অভিজিৎ বিশ্বাস এই হামলার মূল চক্রী। এছাড়া সুমন দত্ত, সুদীপ হালদাররা অভিষেককে ঘিরে ধরেছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ভূমিকা আকাশ গায়েন নামে যুবকের। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অশান্তির ঘটনায় তার যোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে জানিয়ে সোনারপুরের কামরাবাঁধে যাওয়ার পরেও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। খবর ছিল, দুপুর দুটো থেকে ডিম নিয়ে লোকজন জড়ো হয়েছিলেন সেখানে। বিভিন্ন ভিডিও তার প্রমাণ।
আর এসব জেনেই অভিষেক গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আঁচ পেয়েও পুলিশ যথেষ্ট উদাসীন ছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূলের আরও বক্তব্য, অভিষেককে যে বা যারা ইট ছুড়েছিল, সেই ইট অভিষেকের হেলমেটে না লেগে অন্য যে কারও মুখে লেগে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সোমবার ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলে বিজেপির দিকে ইঙ্গিত করেন। তাঁর কথায়, ”সেদিন অভিষেকের উপর যারা হামলা করেছিল, তাদের পিছনে কাদের হাত? একজন সাংসদকে আপনারা আক্রমণ করলেন! যেভাবে সেদিন ইট ছোড়া হয়েছে, হেলমেট না থাকলে মাথায় লেগে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারত। জানি না, ওর চোখটা ঠিক আছে কিনা।”