দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর কাটল জট। অবশেষে সরানো হল লিওনেল মেসির মূর্তি (Lionel Messi Statue)। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার ভিআইপি রোডের লেক টাউন মোড়ে মেসির ৭০ ফুট উঁচু মূর্তিটি সরানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। সম্প্রতি মূর্তিটি হাওয়ায় দুলছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার খাতিরে আগে সেটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এবার তা সরিয়ে নেওয়া হল।
সোমবার সকাল থেকে মূর্তি অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক ক্রেন ও সিঁড়ি। পাশাপাশি নিরাপদে কাজ করার জন্য মূর্তির চারপাশে বাঁশের খাঁচাও তৈরি করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূর্তিটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে সংরক্ষিত রাখা হবে। গোটা প্রক্রিয়ায় যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয় প্রথম থেকেই। এই মূর্তির সঙ্গে অসংখ্য ভক্তের আবেগ জড়িয়ে থাকায় সেটিকে অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে আনাই ছিল পিডব্লিউডি ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সোমবার সকাল থেকে তাঁদের উপস্থিতিতে মূর্তি নামানোর কাজ শুরু হয়।
গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, জোর হাওয়া বইলেই লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তিটি দুলছে। প্রায় দোতলা সমান উঁচু একটি প্ল্যাটফর্মের উপর স্থাপিত হওয়ায় মূর্তিটি আরও বড় ও ভারী বলে মনে হয়। এই অবস্থায় সেটি দুলতে দেখা যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। এরপর পিডব্লিউডি-র বিশেষজ্ঞরা এসে মূর্তিটি পরীক্ষা করে জানান, এটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।
এরমধ্যে একদিন ঝড়ের সময় মূর্তিটি আরও বিপজ্জনকভাবে দুলতে দেখা যায়। নিরাপত্তার কথা ভেবেই গত দু’সপ্তাহ ধরে মূর্তির পিছনের রাস্তা, সামনের ফ্লাইওভার এবং পাশের মাঠ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে মূর্তিটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধেও রাখা হয়। এবার ক্রেনের সাহায্যে সেই মূর্তিটিকে নামানো হল। গত বছরের ডিসেম্বরে ‘গোট’ ট্যুরের অংশ হিসাবে মেসির কলকাতা সফর চলাকালীনে লেক টাউনের মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিল এই মূর্তি। এটি কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা কমিয়ে একই স্থানে পুনরায় মূর্তিটি বসানোর পরিকল্পনা ভাবনাচিন্তায় রয়েছে। পাশাপাশি, এটিকে ইকো পার্কে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।