নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভের কারণ কী? তৃতীয়বার ইডি দপ্তরে হাজিরার আগে মুখ খুললেন রথীন
প্রতিদিন | ০১ জুন ২০২৬
পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তৃতীয়বার ইডি দপ্তরে রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh)। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ইডি (ED) দপ্তরে পৌঁছন তিনি। এদিন ইডি দপ্তরে ঢোকার সময় অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের ঘিরে হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খোলেন রথীন। তাঁর দাবি, “কোথায় খামতি, তা বুঝতে পারলে অনেক কিছু হয়ে যেত।”
এদিকে, রবিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের বৈঠকেও দেখা যায়নি মধ্যমগ্রামের বিধায়ককে। অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি বলেই দাবি তাঁর। রথীন ঘোষ যখন ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন। তার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই লোকভবনে দাঁড়িয়ে শপথ নেন ৩৪ জন মন্ত্রী। তাঁদের সকলকে শুভেচ্ছা জানান রথীন ঘোষ।
প্রসঙ্গত, বছর তিন আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দপ্তরের দায়িত্ব মধ্যমগ্রামের দীর্ঘদিনের বিধায়কের হাতে তুলে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি খাদ্যদপ্তরের ‘কলঙ্ক’ খানিকটা ঘোচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এর মাঝেই রথীন ঘোষের নাম জড়ায় পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সুপারিশে মধ্যমগ্রাম পুরসভায় অবৈধভাবে নিয়োগ হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে ইডি।
সেই মামলার তদন্তে ছাব্বিশের ভোটের মুখে তার কিনারা করতে রথীন ঘোষকে মোট ৫ বার ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রার্থী হওয়ায় এবং নির্বাচনের নানা কাজে ব্যস্ততার অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে যান। গত ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায়, রথীন ঘোষ মধ্যমগ্রাম থেকে মাত্র ১৩০০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এরপর তাঁর উপর ইডির চাপ আরও বাড়ে। এরপর দফায় দফায় ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন। সোমবার তৃতীয়বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করেন ইডি আধিকারিকরা। সেইমতো বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ইডি দপ্তরে পৌঁছন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক।