স্বেচ্ছায় যৌনকর্ম বেআইনি বা অবৈধ নয় বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালত সোমবার জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক কোনও পুরুষ বা মহিলা বা উভয়ের সম্মতিতে যৌনকর্ম হলে পুলিশ কোনও ভাবেই তাঁদের হয়রান (harassment) করতে পারে না।
বাণিজ্যিক কারণে যৌনতা ও মানব পাচারের শিকার হওয়া মহিলাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার রায়ে সোমবার এই কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
Immoral Traffic (Prevention) Act (ITPA)-এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ৭০ বছরের পুরোনো অবৈধ নারী পাচার প্রতিরোধ আইন স্বেচ্ছায় যৌনকর্মে নিযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর কোনও পদক্ষেপ করার ক্ষমতা দেয় না। কারণ, ওই কাজ অবৈধ নয়। সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়েছে, যদিও যৌনপল্লি (Brothel) চালানো অবৈধ, তবুও ওই সব জায়গায় অভিযান চালানোর সময়ে পুলিশকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, স্বেচ্ছায় যাঁরা যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের যেন হয়রানি না হয়।
যৌনকর্মীদের পুনর্বাসন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক যে সব মানুষ নিজের ইচ্ছেয় যৌনকর্মে লিপ্ত থাকবেন, তাঁদের হয়রান করা থেকে পুলিশ যেন বিরত থাকে।
সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে এও জানিয়েছে, 'যেহেতু কোনও মহিলা নিজের ইচ্ছেয় যৌনকর্মে জড়িত থাকেন, তাই তাঁদের উদ্ধার বা পুনর্বাসনের প্রশ্ন ওঠে না, এই যুক্তি সহজ। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালত জোর দিয়ে বলেছে, কোনও যৌনকর্মীকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে পুনর্বাসিত করা উচিত নয় এবং এই ক্ষেত্রে কোনও ধরনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কোনও অবস্থাতেই যেন জোরজবস্তি করা না হয়। যৌনকর্মীরা নিজের ইচ্ছেয় পুনর্বাসন পেতে রাজি হলে তা আলাদা কথা।’
Immoral Traffic (Prevention) Act (ITPA) সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, ওই আইন তৈরি হয়েছিল, বাণিজ্যিক ভাবে যৌনকর্ম বন্ধ করতে। ওই আইন যৌনবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করতে তৈরি করা হয়নি। তা তৈরি হয়েছিল নারীদের পাচার করে বাণিজ্যিক ভাবে যৌনকর্মে তাঁদের লিপ্ত থাকতে বাধ্য করাকে বন্ধ করতে। তাই, কোনও মহিলা যদি জীবিকার প্রয়োজনে স্বাধীন ভাবে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, তাহলে তাঁর বাসস্থানকে যৌনপল্লি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।