আদালতে আগাম জামিনের আবেদন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas)। সোমবার তিনি বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। মেসি কাণ্ডে অরূপের নামে FIR হতেই আগাম জামিন নিতে মরিয়া অরূপ। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন তিনি?
সোমবারই আবার একটি ফেসবুক পোস্টে শতদ্রু দত্ত লেখেন, ‘আগামী ৩ জুন, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী Aroop Biswas এবং অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০০ কোটির ক্ষতিপূরণ, আর্থিক ক্ষতি ও মানহানির মামলা দায়ের করা হবে। তালিকায় Jui Biswas এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নাম রয়েছে, যাদের কর্মকাণ্ডের ফলে আমার ও অনুষ্ঠানের সুনাম, আর্থিক স্বার্থ এবং ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে আমাদের কাছে থাকা প্রমাণে প্রতীয়মান হয়। এখন পর্যন্ত আমরা মোট ১৯ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি, যাদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশদ মূল্যায়ন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও আদালতের সামনে উপস্থাপনযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে তুমুল বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সেই সময়ে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসের বেশি সময় জেলে থাকার পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি। রাজ্যে পালাবদল হতেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানা FIR রুজু করে।
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় উপস্থিত হয়েছিলেন মেসি। হাসিমুখেই যুবভারতীতে প্রবেশ করেন তিনি। এর পরে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলা এবং হাত মেলানোর জন্য অনেকে একত্রিত হন। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। মেসি মাঠ ছাড়ার পরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত দর্শকরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, হাজার হাজার টাকা খরচ করেও মেসিকে দেখতে পাননি তাঁরা। যুবভারতীতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ।
গত শনিবার FIR হয়েছে। তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানো, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো ধারা তাতে যুক্ত হয়েছে বলেও খবর। এই আবহে এ বার আগাম জামিন নিতে আদালতে অরূপ বিশ্বাস।
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসি–র অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব। সেই ঘটনায় শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করেছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই সময়েই জেরায় শতদ্রু জানিয়েছিলেন, অরূপ বিশ্বাসের আমন্ত্রিত প্রায় ৩০০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই মন্ত্রী–ঘনিষ্ঠ একটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। সেই মামলায় তৎকালীন সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে।
যদিও পালাবদলের পরে থানায় অভিযোগ জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে শতদ্রু জানান, সে দিন মাঠে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন তিনি।
শতদ্রু বলেছিলেন, ‘প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস গা-জোয়ারি করে আমার থেকে কুড়ি-বাইশ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন। পরে আরও প্রায় পাঁচ হাজার জনের মাঠে অ্যাকসেস কার্ড দেওয়ার জন্য আমায় জোর করেন। ওঁর আত্মীয় জুঁই বিশ্বাসও আমাকে পরোক্ষ ভাবে হুমকি দেন তাঁকে মাঠে ঢোকার প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য। আমি তাতে রাজি হইনি। পরে উনি মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ছবি তোলেন মেসির সঙ্গে।’
শতদ্রু আরও জানান, এই ইভেন্টে অরূপের পরিবারের সদস্যদের মেসির সঙ্গে ছবি তোলার কথা ছিল না। মাঠে এত লোক ঢুকে পড়ায় টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মাঠে আসা দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। এ দিন ফেসবুক পোস্টে শতদ্রু লেখেন, ‘যে সকল ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থেকে অনুষ্ঠান, আয়োজক, অংশীদার এবং হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর ক্ষতির কারণ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই আইনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্য।’