দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সোমবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তৃণমূলকে ভাঙার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না নিয়ে ঋতব্রত, সন্দীপনের মতো তৃণমূল নেতাদের দিকে আঙুল তুললেন তিনি। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় বলে দিলেন, ‘যাঁরা দল ভাঙার খেলা খেলছেন তাঁদের বলছি, আমিও বড় খেলোয়াড়। ওয়েট করুন।’
ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির থেকেছেন অনেক বিধায়কও। তাঁদের অনেকেই আবার বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সূত্রের খবর। এই নিয়ে তোপ দাগেন মমতা। তাঁর সাফ কথা, ‘যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যাবেন বলে মনস্থির করে ফেলেছেন, তাঁরা বলবেন না, আমরা কর্মীদের দেখিনি। আমি রোজ অফিসে বসি। অভিষেকও বসত। এখন অসুস্থ বলে বসতে পারছে না।’
যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তাঁরা দলকে ভালোবাসেন না বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির কথায় অনেকেই দল ছাড়ছেন। দল ভাঙার খেলা খেলছেন। কিন্তু তাঁদের বলে দিচ্ছি, আমিও বড় খেলোয়াড়। আপনাদের ওয়েট করতে হবে।’ হকার উচ্ছেদ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলা নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘হেলমেট না থাকলে স্পট ডেথ হয়ে যেত। এখন বিজেপির সভাপতি বলছেন, বেঁচে তো আছে। আপনাদের তো আমরা দুধে-ভাতে রেখেছিলাম।’
ভোট পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পথে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নায় বসার কথা জানিয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ। তার পরেও ধর্না হবে বলে এ দিন সাফ জানিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা ১টা থেকে আসুন। ধর্না হবে। যেখানে আটকাবে সেখানে বসে পড়ব। আমরা পথে নামার লোক। এ ভাবে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’ শুধু তাই নয়, বাংলায় আন্দোলন করতে না দিলে দিল্লি গিয়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। সরাসরি বলে দেন, ‘আমাকে ছেড়ে রাখলে বিপদ আছে। কারণ আমি মাথা নত করি না।’
এ দিনও ফের রিগিং তত্ত্ব সামনে আনেন মমতা। নির্বাচনে ভরাডুবির পরে পরাজয় স্বীকার করতে চাননি। সোজাসুজি বলে দিয়েছিলেন, ‘বিজেপি ভোট চুরি করে জিতেছে।’ এ দিনও বললেন, ‘আমি হারিনি। আমাকে হারানো হয়েছে। তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। বিজেপি ১৭৭টা সিটে রিগিং করেছে।’ পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাদের মারছে আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে।’ কলকাতা হাইকোর্ট ঘরছাড়াদের ফেরানোর নির্দেশ দিলেও পুলিশ মানছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন,‘এ ভাবে তৃণমূলকে ভাঙতে পারবে না। আমরা আরও শক্তিশালী হব।’