• ‘আমার রাজনীতিও পোশাকের মতোই, পুরোটাই সাদা-কালো’, স্যুট বিতর্কে কড়া জবাব থালাপতি বিজয়ের
    এই সময় | ০২ জুন ২০২৬
  • তিনি নায়ক। তামিল ভূমের মহানায়ক বললেও অত্যুক্তি হবে না। পর্দায় যে ভাবে ভিলেনদের তুলোধনা করতেন, অনেকটা সেই কায়দাতেই সোমবার তাঁর স্যুট পরা নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়। তিরুচিরাপল্লির জনসভা থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিলেন, ‘আমার রাজনীতিও এই পোশাকের মতোই, সাদা-কালো।’ একই সঙ্গে তাঁর দল টিভিকে-র ভবিষ্যৎ রূপরেখাও ছকে দিলেন তিনি।

    ভিড়ে ঠাসা চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে বিজয় যখন কালো স্যুট পরে মঞ্চে শপথ নিতে উঠেছিলেন, তখনই চমকে গিয়েছিলেন অনেকে। দশকের পর দশক ধরে সাদা শার্ট আর লুঙ্গির মতো করে পরা ধুতিই দ্রাবিড় রাজনীতির পরিচয় হয়ে উঠেছিল। সেখানে ‘স্যুট’? গুঞ্জন শুরু হতে সময় লাগেনি। ক্রমশ তা পল্লবিত হয়েছে। এমনকী তা জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কেরও। এ দিন নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাতে আয়োজিত জনসভা থেকেই সেই সব বিতর্কের জবাব দিলেন বিজয়।

    শুধু ক্ষমতায় থাকা মানুষ নয়, স্যুট সবার। অনেকটা এই বার্তা দিয়েই বিজয় প্রশ্ন তোলেন, ‘অনেকেই বলছেন, আমি কেন স্যুট পরছি? আমি কি স্যুট পরতে পারি না? স্যুট কি শুধু ক্ষমতায় থাকা লোকেরাই পরবে?’ বিজয় স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর পোশাক নিছক ফ্যাশন নয়, একটা বার্তাও বহন করে। বিজয়ের কথায়, ‘খেয়াল করে দেখবেন, আমি শুধু দু’টো রঙের স্যুট পরি। সাদা আর কালো। এটা বোঝানোর জন্য যে বিজয় সব কিছুতেই সাদা-কালো থাকবে।’

    পোশাকই যে তাঁর রাজনৈতিক ধারার পরিচয় বহন করে, তা-ও স্পষ্ট করে দেন বিজয়। সোজাসুজি বলেন, ‘আমার রাজনীতি, আমার পোশাকের মতোই। পুরোটাই সাদা-কালো।’ তাঁর কথায়-কাজে যে কোনও ধূসর জায়গা নেই, বিজেয় সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। দ্রাবিড় রাজনীতিতে রামাস্বামী পেরিয়ার কালো পোশাক পরতেন। এটা ছিল তাঁর প্রতিবাদের ভাষা। পেরিয়ারের সমর্থকদের মধ্যেও কালো পোশাক পরার চল রয়েছে। বিজয় পেরিয়ারের দেখানো পথে এগিয়ে চলার বার্তাও দিয়েছেন এ দিন। তাঁর কথায়, ‘আমি এমজিআর, আন্না আর পেরিয়ারের দেখানো পথে কাজ করতে এসেছি।’

    এমজিআর মানে এম জি রামচন্দ্রনের সঙ্গে বিজয়ের মিল পান অনেকেই। দু’জনেই নামী অভিনেতা ছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী হন। আর সিএন আন্নাদুরাই তো দ্রাবিড় আন্দোলনের পথিকৃৎ। বিজয় অবশ্য দু’জনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েও কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেন। বলে দিলেন, ‘অনেকে এমজিআরের সঙ্গে আমার তুলনা করছেন। বলছেন, তিনিও প্রথম নির্বাচনে এত ভোট পাননি। আমি কোনও তুলনায় যাচ্ছি না। শুধু বলছি, এমজিআর আলাদা। আমি বিজয়। আপনাদের ভাই, দাদা। যে আপনাদের কাজ করতে এসেছে।’

  • Link to this news (এই সময়)