• ‘পড়াশোনা করে লেবার খাটতে হচ্ছে...’, ‘পার্টিজান’ কলিতা মন্ত্রী হয়ে আর কী বললেন?
    এই সময় | ০২ জুন ২০২৬
  • পরিচারিকার কাজ করেই সংসার চালাতেন তিনি। দিনভর কাজ করে, তার পরে দলের কাজ। নিষ্ঠার সঙ্গে দলের কাজ করার পুরস্কার পেয়েছিলেন কলিতা মাজি, ২০২১ সালে প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়ার পরে, ২০২৬ সালে ফের আউশগ্রাম আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। দলের ভরসার মান রেখে জয়ী হন তিনি। আরও একবার তাঁর উপর ভরসা রাখল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন তিনি। সোমবার কলকাতায় লোকভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কলিতা মাজি। সেই খবর আউশগ্রামে পৌঁছতেই খুশির হাওয়া। চলল লাড্ডু বিলি, মিষ্টি মুখ। সোমবার মন্ত্রিসভার গঠন ছিল, সেই কারণে রবিবার রাত আটটা নাগাদ গুসকরা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন কলিতা মাজি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও ছেলে।

    গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি। পেশায় পরিচারিকা আর নেশায় দলের কর্মী। তাঁর ছেলে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরিচারিকার কাজ থেকে মিলতো মাসে আড়াই হাজার টাকা। সকালে পরিচারিকার কাজ, ঘর-সংসার সামলে বেরিয়ে পড়তেন দলের কাজে। খুবই সাধারণ ভাবে, অনেক কষ্ট করেই চলেছে সংসার। ২০২১ সালেও তিনি আউশগ্রাম আসনেই বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন। সে বার তিনি হেরে যান। তার পরেও তাঁর উপরেই ভরসা করে দল। এ বার সেই ভরসার মর্যাদা দিয়ে জয়ী হয়েছেন কলিতা মাজি। কোনও সময়ে ভেবেছিলেন মন্ত্রী হবেন? প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, ‘এরকম স্বপ্ন ছিল না। ভারতীয় জনতা পার্টি এমন জায়গায় আনতে পারে প্রমাণ করে দিল। মানুষকে সম্মান দিতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং নরেন্দ্র মোদী।’

    প্লাতিলাল পাত্র ও কৃষ্ণা পাত্রের বাড়িতে পরিচারিকার দায়িত্বে ছিলেন কলিতা মাজি। সেই কৃষ্ণা পাত্র বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। কলিতাকে দেখতাম মেয়ের মতো করেই। রাস্তা, হাসপাতাল-সহ অনেক কাজই করতে হবে। সেই কাজ করতে পারবেন কলিতা।’ প্লাতিলাল পাত্র জানাচ্ছেন, তাঁদের এক মেয়ে ছিল, তিনি মারা গিয়েছেন। তার পর থেকে তাঁদের মেয়ের জায়গা নিয়েছিলেন কলিতা। ওই প্রৌঢ় বলেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে কলিতা আমাদের দেখতো, ঘরের দেখাশোনা করত। সে আমাদের মেয়ে।’ কথা বলতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে তাঁর। এই সময় অনলাইনের কাছে বিষয়টি শোনার পরে কলিতা মাজি বলেন, ‘ওঁরা আমায় মেয়ের চোখেই দেখেন। কাজের মেয়ের চোখে দেখেননি। আমি কাকাকে বাবা বলেই ডাকি।’

    তিনি রাজনৈতিক কর্মী, তিনি মন্ত্রী, তারই সঙ্গে তিনি একজন মা। রাজ্যের মায়েদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? মন্ত্রী কলিতা মাজি জানাচ্ছেন, পিছিয়ে পড়া ঘরের ছেলেমেয়েরা বঞ্চিত হয়, সেটা যেন ভালো ভাবে সুযোগ পায় সেই চেষ্টা করবেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিধানসভা এলাকায় দেখেছি পড়াশোনা শিখেও টোটো চালাতে হচ্ছে, রাজমিস্ত্রির লেবার খাটতে হচ্ছে, সেটা যেন না হয়।’ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে চাকরি হবে, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

    পুরোনো লড়াই মনে থাকবে? ক্ষমতা কি বদলে দেবে আপনাকে? মন্ত্রীর উত্তর, ‘আমি মানুষের জন্য এই জায়গায়। মানুষ আমায় দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছেন বলে এই জায়গায়। কী করে মানুষকে ভুলে যাই বলুনতো?’

  • Link to this news (এই সময়)