• তৃণমূলের কর্মসূচিতে আর অরূপ রায়কে দেখা যাবে?
    আজকাল | ০২ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই আক্রান্ত দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। মার খাচ্ছেন বিধায়করাও। অথচ এই চরম সঙ্কটের দিনেও ‘নিস্পৃহ’ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব! দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো তো দূর, একটা খোঁজ নেওয়ার সৌজন্যটুকুও দেখায়নি দল। 

    এই অভিযোগে এবার সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর চড়ালেন রাজ্যের তিনবারের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায়। উদয়নারায়ণপুরের দলীয় বিধায়ক সমীর পাঁজার আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে দলের নিয়ন্ত্রণহীনতা নিয়ে

    বেনজির তোপ দাগলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। যা বর্তমান রাজনৈতিক আবহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    এদিন নিজের বাসভবনে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন অরূপ রায়। সেখানে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং বর্তমান রণকৌশল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অরূপবাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সমস্ত জেলাতেই পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। এর আগে আমরা অনেকবার হেরেছি। কখনও ৪০টা বা কখনও ৩০টা সিট পেয়েছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। আমরা বুক ফুলিয়ে রাজনীতি করেছি, থানা ঘেরাও করেছি, মিছিল, মিটিং করেছি। এরকম ঘটনা ঘটেছে কারণ বর্তমানে দলের প্রতি উচ্চ নেতৃত্বের কোনও কন্ট্রোল নেই।"

    দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ বিধায়ক বলেন, জেলায় জেলায় কর্মীরা আক্রান্ত, অনেকে ভয়ে বাড়িছাড়া। এই মুহূর্তে দলের উচিত ছিল কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু দল সেটা সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

    ক্ষোভের সুরে তিনি জানান, উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা মার খেয়ে বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না, অথচ রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একজনও তাঁকে ফোন করে খোঁজ নেননি। ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও দলের এই উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অরূপবাবু বলেন, "দল ছাড়ার কথা এখনও কিছু ভাবিনি। তবে দলের কর্মসূচিতে আগামী দিনে আমাকে দেখা যাবে কিনা এখনও ঠিক করিনি। পরিস্থিতি তৈরি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।"

    এদিকে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সরকারি ত্রাণের সামগ্রী ‘পাচার’ করার অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যা অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অরূপ রায়। তাঁর দাবি, ইদ ও পুজোর সময় নিয়ম মেনেই বিধায়কদের কাছে সরকারি ত্রাণ ও ক্রীড়া সামগ্রী আসে। উদ্বৃত্ত সামগ্রী জেলাশাসকের দপ্তরে ফেরত পাঠানোর সময় বিজেপি কর্মীরা অন্যায়ভাবে গাড়ি আটকান।  

    নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সততার খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমার ১৫ বছরের মন্ত্রীত্বে আমি কোনও রং দেখিনি। যে সাহায্য চেয়েছে, তাকেই সাহায্য করেছি। নিজের পকেট থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বই, ল্যাপটপ, ট্রাই সাইকেল বা চিকিৎসার খরচ দিয়েছি।"

    ২০১১ সালের পরিবর্তনের আবহের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শান্তিপূর্ণভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়ে আনন্দ করা হয়েছিল, কাউকে কটূক্তি করা হয়নি। অথচ এখন রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।

    তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অরূপ রায় অভিযোগ করেন, "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যারা এই কাজ করেছে, তাদের ধিক্কার জানাই। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। আমার বাড়ির দরজায়, শাটারে, গ্যারেজে লাথি মেরেছে। নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছে। এমনকি বাড়ির সিসিটিভি পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছে।" এই ঘটনায় জড়িতদের ফেসবুক লাইভ ফুটেজ ও সিসিটিভি দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় এফআইআর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিজেপির আক্রমণ এবং অন্যদিকে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে অরূপ রায়ের এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান রাজ্যের শাসক শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। এখন জল কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।
  • Link to this news (আজকাল)