বঙ্গ বিজেপির নেতারা বলছেন, আর কয়েকদিন পর নাকি তৃণমূল দলটাই উঠে যাবে। অন্যদিকে 'রাস্তাই রাস্তা দেখাবে' মন্ত্রে, মঙ্গলে পথে নামছেন মমতা। তার আগেই, সোম উত্তাল এক জল্পনায়। তৃণমূলের ক্ষোভ-বিক্ষোভের দিন পেরিয়ে, এবার নাকি স্পষ্ট ভাঙন! সোমবার তৃণমূল বহিষ্কার করেছেন ঋতব্রত ব্যানার্জি আর সন্দীপন সাহাকে।
তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই দু'জন বিধায়কই নাকি বিধানসভার গোচরে এনেছেন, জাল সই করার বিষয়টি। অন্যদিকে জল্পনা, ঋতব্রতর হাত ধরেই নাকি, ভাগ হতে চলেছে তৃণমূল। যদিও এই জল্পনার পাশে সিলমোহর পড়েনি।
তার মাঝেই আজকাল ডট ইন-কে এক্সক্লুসিভ প্রতিক্রিয়া প্রতীক উর রহমানের। ২১ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি। তারপরেই সেই দলের ভরাডুবি। চোখের সামনে নেতাদের উল্টো সুর। কী বলছেন তিনি?
প্রথমেই বক্তব্য, 'আমার কাছে নতুন তৃণমূল, পুরনো তৃণমূল বলে কিছু জানা নেই। বিজেপির পাতা ফাঁদে পা না দেওয়াই ভাল। মহারাষ্ট্রেও তাই করেছে। এখন লক্ষ্য বাংলায় বিরোধী ভোট ভাগ করা, এখন একজোট হয়ে থাকার সময়।'
কিন্তু 'একজোট' শব্দ তৃণমূলে কোথায় এখন? নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, দুর্নীতির দায়ে জেলে অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে যদি জল্পনা সত্যি হয়, দল দু'ভাগে ভাগ হয়, প্রতীক উর কি বাম জমানার 'দাদা' ঋতব্রতর হাত ধরবেন, নাকি যাঁর হাত ধরে তৃণমূলে এলেন, সেই অভিষেকের সঙ্গে থাকবেন? সাফ জানাচ্ছেন, 'ন্যাড়া বেল তলায় একবারই যায়। শিক্ষা নেওয়া উচিত মহারাষ্ট্র থেকেই। এই জল্পনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। কিন্তু তা হলেও, এটা বিজেপির পরিকল্পনা হতে পারে। সেই ফাঁদে পা দেব কেন?' সঙ্গেই বক্তব্য, 'আমি কয়েকমাস হল তৃণমূলে এসেছি। ভোট পরবর্তী সময়েও আমি নিজের এলাকায় প্রকাশ্যে তৃণমূল কর্মী বলেই ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমার কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তাঁদের হচ্ছে, যাঁরা কিছুটা সমস্যা তৈরি করেছেন, সম্পদ তৈরি করেছেন। তাঁরা এখন সম্পদ বাঁচাতে, নিজেদের বাঁচাতে ভাল তৃণমূল হতে চাইছেন। আমার সেই দায় নেই।'