• ঋতব্রতর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সুপ্রকাশ গিরির!
    আজকাল | ০২ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস বহিষ্কার করার পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। বিশেষ করে দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একটি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, যার নেতৃত্বে ঋতব্রত ও সন্দীপন ছিলেন বলে মনে করছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। এর মধ্যেই দলবিরোধী কার্যকলাপ ও নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে গরহাজির থাকার অভিযোগে এই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন মমতা ব্যানার্জি। এরপরই ফেসবুক লাইভে এসে দলের ‘গদ্দার’-দের একহাত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এমনকী, দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করার পর তাঁরা যে এলাকা থেকে জিতেছেন সেখানকার মানুষের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ বক্তব্য, যারা মানুষের ভোট নিয়ে গদ্দারি করছে, তাদের টিকিট দেওয়াটা দলের ভুল ছিল। ঋতব্রতের নাম না করে মমতা বলেন, ও পায়ে পড়েছিল এসে। সিপিএম সেদিন ওকে তাড়িয়ে দিয়ে ঠিকই করেছিল, অন্তত এই একটা ক্ষেত্রে তিনি সিপিএম-কে অ্যাপ্রিশিয়েট করেন। তা সত্ত্বেও তৃণমূল তাঁকে দু’বার সংসদে জিতিয়েছে, এবার হাওড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তাই মানুষের সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

    মমতা ব্যানার্জির এই কড়া পদক্ষেপের পর তৃণমূলের অন্দরে যেমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তেমনই ঋতব্রত কাণ্ডে এবার নিজের দলেরই বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কাঁথি পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান তথা জেলা তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর সুপ্রকাশ গিরি। এক সাক্ষাৎকারে দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে দল আসল আর নকলের ফারাকটা বুঝতেই পারল না। যারা দলনেত্রীর কাছ থেকে সবথেকে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, তারাই আজ সবার আগে ওনার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। সুপ্রকাশবাবুর ক্ষোভ, ঋতব্রত ব্যানার্জির মতো নেতারা, যারা অতীতে আশুতোষ কলেজে পড়ার সময় থেকেই এসএফআই-সিপিএম করেছেন, তারা দলে এসেই সাংসদ বা রাজ্যস্তরের সংগঠনের মাথায় বসেছেন; অথচ দলের একনিষ্ঠ কর্মীরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছেন। এই ধরণের সুবিধাবাদীদের এগিয়ে দেওয়ার ভুলের কারণেই আজ তৃণমূলকে এমন বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, "ঋতব্রত কিন্তু ভালো তৃণমূল নয়, হলদিয়া, আসানসোল, দুর্গাপুর, উত্তরবঙ্গতে কী করেছে সবাই জানে। আমার কাছেও কিছু প্রমাণ আছে, সময় মতন দেবো।"

    অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পালটা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জিও। দলের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে তাঁর অভিযোগ, দলের মাথা থেকে পা অবধি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত, আর এমন একটা দল কখনও টিকে থাকতে পারে না— এটাই বিজ্ঞান। দলের ভেতরে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি। তৃণমূলের তরফ থেকে তাঁকে বেইমান বা গদ্দার বলা হচ্ছে, এই প্রশ্নে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ঋতব্রত বলেন, "বেইমান কেউ বলতেই পারেন, কিন্তু কেউ চোর চোর বলে তাড়া করেনি আমার কেন্দ্রে।" সব মিলিয়ে, সই জালিয়াতির তদন্তে সিআইডির তৎপরতা, দুই বিধায়ককে বহিষ্কার এবং তার জবাবে দল ও নেতার কাদা ছোঁড়াছুড়িতে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত।
  • Link to this news (আজকাল)