পেটের টানে সুন্দরবনে গিয়ে বাঘের মুখে ২ মৎস্যজীবী! কুলতলিতে শোকের ছায়া
News18 বাংলা | ০২ জুন ২০২৬
: কুলতলিতে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু দুই মৎস্যজীবীর। যদিও একজনের মৃতদেহ এখনও আনা সম্ভব হয়নি। অপরজনের দেহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মধু সংগ্রহে গিয়ে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণের কবলে পড়েন এক মধু সংগ্রাহক। ওই ব্যক্তির নাম গোপাল চক্রবর্তী। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে কুলতলির দেউল বাড়িতে। ওই ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ আছেন বলে জানা গিয়েছে।
গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে গোপাল আরও কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তারপর কয়েকদিন তারা নদীতে ছিলেন। তবে জঙ্গলে প্রবেশের সময় বিপত্তি বাঁধে। এরপর বাঘের আক্রমণের মুখে পড়েন গোপাল চক্রবর্তী। এদিকে সঙ্গীরা গোপালকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তারা জঙ্গল থেকে ফিরে এসে খবর দেন এমন ঘটনা ঘটেছে। এরপর নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। খবর দেওয়া হয়েছে স্থানীয় থানাতেও।
তবে বাঘের হামলার পর থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি এবং দেহও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বন দফতরের কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছেন। অপরদিকে উত্তম জানা, ভাইপো গুরুপদ জানা ও প্রতিবেশী তাপস পয়রাকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার সকালে তারা রায়দিঘি রেঞ্জের আজমল মারির বৈঠা ভাঙা জঙ্গলে পেটের টানে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে কাঁকড়া ধরতে যায়। আর সেখানেই বাঘ তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
নিজের সন্তান ও ভাইপো বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করেও শেষ তারা রণে ভঙ্গ দেয়। পরে বাড়িতে এসে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় মৈপিঠ কোস্টাল থানায় এবং স্থানীয় নলগোড়া বিট ও রায়দিঘি রেঞ্জে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামবাসীরা ও প্রতিবেশী বাঘের মুখ থেকে তার দেহটি ফিরিয়ে আনে। পরে দেহটি নিয়ে জাওয়া জয়নগর কুলতলী গ্রামীণ হাসপাতালে ডাক্তার মৃত্যু নিশ্চিত করায় তার দেহটি নিজেদের হেফাজতে নাই কুলতলী থানার পুলিশ। পরে ময়না তদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।