অভিষেকের ১৫ দিন সময় দিল না CID, ৮ জুন হাজিরা দিতে হবে ভবানী ভবনে
আজ তক | ০২ জুন ২০২৬
বিধানসভার ভুয়ো সই-কাণ্ডের তদন্তে ফের তলব করা হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়ে CID-কে চিঠি পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বরং নতুন নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে ৮ জুন ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টায় CID দফতরে অভিষেককে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করে তদন্তকারীদের কাছে সময় চান। সূত্রের খবর, সোমবারই তিনি CID-কে চিঠি পাঠিয়ে ১৫ দিনের সময় প্রার্থনা করেন।
কিন্তু এদিন বিকেলেই কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যান CID আধিকারিকরা। তদন্তকারী দলের সদস্যরা নতুন নোটিস নিয়ে তাঁর কালীঘাট রোডের বাসভবনে যান। সেখানে অভিষেকের হাতে নোটিস তুলে দিয়ে জানানো হয়, আগামী ৮ জুন তাঁকে বিধানসভার ভুয়ো সই-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে হবে।
সূত্রের খবর, বিকেল ৫টা ৫২ মিনিট নাগাদ CID আধিকারিকেরা কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন। প্রথমে নোটিস গ্রহণ নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। বাড়ির ভিতর থেকে অভিষেকের এক কর্মী বাইরে এসে জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি পরে দেখা করবেন। তবে নোটিসে স্বাক্ষর না পাওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে যেতে রাজি হননি তদন্তকারীরা।
এর পর ওই কর্মী আবার ভিতরে যান এবং কিছু ক্ষণের মধ্যেই অভিষেকের স্বাক্ষর করা নোটিস নিয়ে ফিরে আসেন। স্বাক্ষর যাচাই করার পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান CID আধিকারিকেরা।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় তৃণমূল সাংসদদের ভুয়ো সই সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করছে CID। সেই মামলায় গত শনিবারও অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। প্রথমে হরিশ মুখার্জি রোডের শান্তিনিকেতন ভবনে পৌঁছলেও তাঁকে না পেয়ে পরে কালীঘাটের বাড়িতে যান আধিকারিকেরা। সেখানেই প্রথম সমনের নোটিস তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশ ছিল, সোমবার দুপুরে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সেই হাজিরা এড়িয়ে যান অভিষেক। তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে CID-র কাছে সময় চাওয়া হয়।
তবে CID সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সেই কারণেই নতুন করে ৮ জুন হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন অভিষেক ওই দিন তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।